১. জ্বর (Fever)
জ্বর কী?
জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়, বরং এটি বিভিন্ন রোগ বা ইনফেকশনের একটি সাধারণ লক্ষণ। শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে (সাধারণত ৯৮.৬° ফাঃ বা ৩৭° সেঃ) বেশি হলে তাকে জ্বর বলা হয়।
সাধারণ কারণ:
ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ (যেমন: ঠান্ডা লাগা, ফ্লু, টনসিলাইটিস, নিউমোনিয়া, ইউরিন ইনফেকশন ইত্যাদি)
শরীরে কোনো প্রদাহ (Inflammation)
কিছু ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
টিকা নেওয়ার পর
লক্ষন:
শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি
কাঁপুনি বা শীত শীত লাগা
মাথাব্যথা
শরীরে ব্যথা বা ম্যাজম্যাজ করা
দুর্বলতা ও ক্লান্তি
ক্ষুধামন্দা
করণীয়/সাধারণ পরামর্শ:
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন (যেমন: পানি, ফলের রস, স্যুপ)।
হালকা গরম পানিতে শরীর মুছে নিন (স্পঞ্জিং)। এটি তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
সহজপাচ্য খাবার খান।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করতে পারেন।
কখন ডাক্তার দেখাবেন:
শিশুদের ক্ষেত্রে ১০২° ফাঃ (৩৮.৯° সেঃ) এর বেশি জ্বর হলে।
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ১০৩° ফাঃ (৩৯.৪° সেঃ) এর বেশি জ্বর বা জ্বর ৩ দিনের বেশি স্থায়ী হলে।
জ্বরের সাথে তীব্র মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, ত্বকে র্যাশ, খিঁচুনি বা অতিরিক্ত বমি হলে।
দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি বা দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর হলে।
২. সর্দি-কাশি (Common Cold & Cough)
সর্দি-কাশি কী?
সর্দি-কাশি একটি খুবই সাধারণ শ্বাসনালীর উপরিভাগের ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা মূলত নাক, গলা এবং সাইনাসকে আক্রান্ত করে।
লক্ষন:
নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ থাকা
গলা ব্যথা বা খুসখুস করা
হাঁচি
হালকা জ্বর (সাধারণত ১০১° ফাঃ এর নিচে)
শুকনো বা কফযুক্ত কাশি
শরীর ম্যাজম্যাজ করা, হালকা মাথাব্যথা
করণীয়/সাধারণ পরামর্শ:
বিশ্রাম নিন।
প্রচুর তরল পান করুন।
গরম পানির ভাপ (Steam inhalation) নিতে পারেন।
আদা, লেবু, মধু দিয়ে চা পান করতে পারেন।
লবণ-পানি দিয়ে গার্গল করলে গলা ব্যথায় আরাম পাওয়া যায়।
নাক বন্ধের জন্য স্যালাইন নেজাল ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শে লক্ষণ অনুযায়ী কফ सिरাপ বা অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করা যেতে পারে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন:
শ্বাসকষ্ট হলে বা শ্বাস নেওয়ার সময় বুকে শব্দ হলে।
বুকে ব্যথা হলে।
বেশি জ্বর (১০২° ফাঃ এর উপরে) দেখা দিলে।
৭-১০ দিনের বেশি সময় ধরে লক্ষণগুলো না কমলে বা আরও খারাপ হলে।
কানের ভেতরে তীব্র ব্যথা হলে।
৩. ফ্লু (Influenza)
ফ্লু কী?
ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু একটি ভাইরাসজনিত শ্বাসনালীর রোগ, যা সাধারণ সর্দি-কাশির চেয়ে তীব্র হতে পারে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
লক্ষন (সাধারণত হঠাৎ শুরু হয়):
হঠাৎ উচ্চ জ্বর (১০১° ফাঃ থেকে ১০৪° ফাঃ পর্যন্ত হতে পারে)
তীব্র শরীর ব্যথা ও পেশিতে ব্যথা
প্রচণ্ড মাথাব্যথা
তীব্র ক্লান্তি ও দুর্বলতা
শুকনো কাশি (অনেক সময় তীব্র হতে পারে)
গলা ব্যথা, সর্দি বা নাক বন্ধ
করণীয়/সাধারণ পরামর্শ:
অবশ্যই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
প্রচুর তরল পান করুন।
জ্বর ও শরীর ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন গ্রহণ করতে পারেন।
অন্যদের থেকে নিজেকে দূরে রাখুন (Isolation) যেন রোগটি ছড়িয়ে না পড়ে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন:
তীব্র শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করলে।
মাথা ঘোরা বা জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা হলে।
ক্রমাগত বমি হলে।
ফ্লু-এর লক্ষণগুলো উন্নতি না হয়ে আরও খারাপের দিকে গেলে।
উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা (যেমন: শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী মহিলা, হাঁপানি, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি) ফ্লুতে আক্রান্ত হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রতিরোধ:
ফ্লু ভ্যাকসিন প্রতি বছর নেওয়া ফ্লু প্রতিরোধের একটি ভালো উপায়।
বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।
হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু বা কনুই দিয়ে মুখ ঢাকা।
অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।
৪. মাথা ব্যথা
সাধারণ পরিচিতি: মাথার যেকোনো অংশে ব্যথা অনুভূত হওয়াকেই মাথাব্যথা বলে। এর তীব্রতা হালকা থেকে মাঝারি বা হতে পারে।
প্রকারভেদ (সংক্ষেপে):
- টেনশন হেডেক (Tension Headache): সবচেয়ে সাধারণ মাথাব্যথা। মাথার দুপাশে চাপ অনুভূত হয়, যেন ব্যান্ড দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, কম ঘুম ইত্যাদি এর কারণ হতে পারে।
- ক্লাস্টার হেডেক (Cluster Headache): এটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত তীব্র মাথাব্যথা। সাধারণত চোখের চারপাশে বা মাথার একপাশে নির্দিষ্ট সময় ধরে হয় এবং কিছুদিন পরপর ফিরে আসতে পারে।
- সাইনাস হেডেক (Sinus Headache): সাইনাসের ইনফেকশন বা প্রদাহের কারণে এই ব্যথা হয়। কপাল, গাল এবং চোখের চারপাশে চাপ ও ব্যথা অনুভূত হয়।
সাধারণ মাথাব্যথার অন্যান্য কারণ:
- পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া
- পানিশূন্যতা (শরীরে জলের অভাব)
- অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকা
- চোখের ওপর চাপ (যেমন – চশমার পাওয়ার পরিবর্তন, দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহার)
- উচ্চ রক্তচাপ
- অতিরিক্ত মদ্যপান
- কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ঘরোয়া যত্ন ও প্রতিকার (সাধারণ মাথাব্যথার জন্য):
- বিশ্রাম: অন্ধকার, শান্ত ও নীরব ঘরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন।
- সেঁক: কপালে বা ঘাড়ে ঠান্ডা বা গরম সেঁক (Cold/Hot Compress) দিতে পারেন। পাতলা কাপড়ে বরফকুচি জড়িয়ে বা গরম জলরোধী ব্যাগে সহনীয় গরম জল ভরে সেঁক দেওয়া যেতে পারে।
- পানি পান: পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
- সাধারণ ব্যথানাশক: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বা নির্দেশিকা মেনে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ খেতে পারেন। তবে, অতিরিক্ত বা ঘন ঘন ব্যথানাশক সেবন করবেন না, এতে “মেডিকেশন ওভারইউজ হেডেক” হতে পারে।
- আদা চা: বমি ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।
- ম্যাসাজ: হালকা হাতে কপাল, ঘাড় ও কাঁধ ম্যাসাজ করলে আরাম লাগতে পারে।
৫. মাইগ্রেন (Migraine):
- সাধারণ পরিচিতি: মাইগ্রেন শুধু সাধারণ মাথাব্যথা নয়, এটি একটি জটিল স্নায়বিক (Neurological) সমস্যা। এতে মাথার একপাশে তীব্র দপদপে ব্যথা হয় এবং এর সাথে আরও কিছু উপসর্গ দেখা যায়।
- মাইগ্রেনের লক্ষণ:
- অরা (Aura): কিছু ক্ষেত্রে মাইগ্রেন শুরু হওয়ার আগে বা মাইগ্রেনের সাথে অরা দেখা যায়। যেমন – চোখে আলোর ঝলকানি দেখা, চোখে ঝাপসা দেখা, শরীরের একপাশে ঝিঁ ঝিঁ ধরা বা অবশ লাগা, কথা বলতে অসুবিধা হওয়া।
- ব্যথা: মাথার একপাশে (কখনও কখনও দুপাশেও হতে পারে) তীব্র, দপদপে ব্যথা।
- অন্যান্য উপসর্গ: বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, আলো ও শব্দের প্রতি তীব্র সংবেদনশীলতা, শারীরিক দুর্বলতা।
- পোস্টড্রোম (Postdrome): মাইগ্রেনের ব্যথা কমে যাওয়ার পরেও ক্লান্তি, মনোযোগে অসুবিধা বা মনমরা ভাব থাকতে পারে।
মাইগ্রেন চিকিৎসা:
- তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা: মাইগ্রেনের আক্রমণ শুরু হলে ব্যথা কমানোর জন্য ট্রিপটান (Triptans) জাতীয় বিশেষ ওষুধ বা অন্যান্য ব্যথানাশক দেওয়া হয়।
- প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা: যাদের ঘন ঘন মাইগ্রেনের আক্রমণ হয়, তাদের জন্য প্রতিরোধমূলক ওষুধ (যেমন – বিটা-ব্লকার, ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার, কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বা অ্যান্টিসিজার ওষুধ) ব্যবহার করা হতে পারে।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়।
৬. অ্যাসিডিটি (Acidity) বা অম্লতা
অ্যাসিডিটি কী?
পাকস্থলীতে খাদ্য হজমের জন্য হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) নামক এক প্রকার অ্যাসিড তৈরি হয়। যখন এই অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায় বা অ্যাসিড খাদ্যনালীর উপরের দিকে উঠে আসে, তখন বুকে ও গলায় জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়। এই অবস্থাকে অ্যাসিডিটি বা অম্লতা বলে।
সাধারণ কারণ:
- অতিরিক্ত তেল, চর্বি ও মশলাযুক্ত খাবার গ্রহণ।
- দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা বা অসময়ে খাওয়া।
- অতিরিক্ত চা, কফি বা অ্যালকোহল পান করা।
- ধূমপান।
- দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ।
- কিছু ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন – ব্যথানাশক ঔষধ)।
- অতিরিক্ত ওজন।
- রাতে খাওয়ার পরপরই ঘুমিয়ে পড়া।
লক্ষণসমূহ:
- বুক জ্বালাপোড়া করা (হার্টবার্ন)।
- গলার কাছে টক স্বাদ বা জ্বালা অনুভব করা।
- পেটের উপরের অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি।
- বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
- পেট ফাঁপা লাগা।
- ঘন ঘন ঢেঁকুর ওঠা।
প্রাথমিক করণীয় ও ঘরোয়া প্রতিকার:
- এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ পান করা যেতে পারে।
- ডাবের জল অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করে।
- আদা কুচি চিবিয়ে খাওয়া বা আদা চা পান করা উপকারী।
- খাবারের পর সামান্য মৌরি চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
- পুদিনা পাতা অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করে।
- অ্যালোভেরা জুস অল্প পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।
- বাজারে উপলব্ধ অ্যান্টাসিড জাতীয় ঔষধ (যেমন – তরল অ্যান্টাসিড, চুষে খাওয়ার ট্যাবলেট) চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করা যেতে পারে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন:
- যদি ঘন ঘন বা তীব্র অ্যাসিডিটির সমস্যা হয়।
- বুকের ব্যথা তীব্র হলে (এটি হার্টের সমস্যাও হতে পারে)।
- খাবার গিলতে অসুবিধা হলে।
- ওজন কমে গেলে বা রক্তবমি হলে।
প্রতিরোধ:
- নিয়মিত ও পরিমিত আহার করুন।
- অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
- খাওয়ার অন্তত ২-৩ ঘণ্টা পর ঘুমাতে যান।
- ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করুন।
- মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।
৭. বদহজম (Indigestion) বা অজীর্ণতা
বদহজম কী?
বদহজম হলো পেটের উপরের অংশে অস্বস্তি বা ব্যথা, যা সাধারণত খাওয়ার পরে হয়ে থাকে। এটি কোনো রোগ নয়, বরং কিছু অন্তর্নিহিত সমস্যার লক্ষণ।
সাধারণ কারণ:
- অতিরিক্ত দ্রুত খাওয়া বা ভালোভাবে না চিবিয়ে খাওয়া।
- অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া।
- চর্বিযুক্ত, তৈলাক্ত বা মশলাদার খাবার বেশি খাওয়া।
- অতিরিক্ত ক্যাফেইন, অ্যালকোহল বা সোডা পান করা।
- মানসিক চাপ ও উদ্বেগ।
- কিছু ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
- পাকস্থলীর আলসার, গ্যাস্ট্রাইটিস, পিত্তথলির সমস্যা ইত্যাদি।
লক্ষণসমূহ:
- খাবার পর পেট ভরা বা টাইট লাগা।
- পেটের উপরের অংশে অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া।
- পেট ফাঁপা ও গ্যাস।
- বমি বমি ভাব বা বমি।
- ঘন ঘন ঢেঁকুর ওঠা।
প্রাথমিক করণীয় ও ঘরোয়া প্রতিকার:
- হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খান।
- খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে ধীরে ধীরে খান।
- আদা চা, জিরা জল, বা পুদিনা চা পান করতে পারেন।
- লেবুর রসের সাথে হালকা গরম জল ও সামান্য লবণ মিশিয়ে পান করলে উপকার পাওয়া যায়।
- খাওয়ার পর কিছুক্ষণ ধীরে হাঁটাচলা করতে পারেন।
- কিছু হজম সহায়ক এনজাইম (Digestive enzymes) চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া যেতে পারে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন:
- বদহজমের সাথে তীব্র পেট ব্যথা হলে।
- অকারণে ওজন কমলে।
- রক্তবমি বা কালো পায়খানা হলে।
- খাবার গিলতে সমস্যা হলে।
- যদি লক্ষণগুলো কিছুদিন ধরে চলতেই থাকে বা আরও খারাপ হয়।
প্রতিরোধ:
- পরিমিত পরিমাণে খান।
- তৈলাক্ত ও মশলাদার খাবার কম খান।
- খাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না।
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
- ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করুন।
৮. ডায়রিয়া (Diarrhoea) বা উদরাময়
ডায়রিয়া কী?
দিনে তিনবার বা তার বেশিবার স্বাভাবিকের চেয়ে পাতলা পায়খানা হলে তাকে ডায়রিয়া বলে। এটি সাধারণত স্বল্পস্থায়ী হয়, তবে মারাত্মক পানিশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে।
সাধারণ কারণ:
- ভাইরাস সংক্রমণ (যেমন – রোটাভাইরাস, নোরোভাইরাস)।
- ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ (যেমন – ই. কোলাই, সালমোনেলা) যা সাধারণত দূষিত খাবার বা জলের মাধ্যমে ছড়ায়।
- পরজীবী সংক্রমণ।
- কিছু ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন – অ্যান্টিবায়োটিক)।
- খাদ্যে বিষক্রিয়া (ফুড পয়জনিং)।
- ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স (দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে সংবেদনশীলতা)।
- কৃত্রিম মিষ্টিজাতীয় খাবার।
লক্ষণসমূহ:
- ঘন ঘন পাতলা পায়খানা।
- পেটে ব্যথা বা মোচড় দেওয়া।
- জরুরি ভিত্তিতে মলত্যাগের বেগ।
- বমি বমি ভাব বা বমি।
- মাঝে মাঝে হালকা জ্বর।
- শরীরে জলের অভাব বা পানিশূন্যতার লক্ষণ (যেমন – মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কম প্রস্রাব হওয়া, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা)।
প্রাথমিক করণীয় ও ঘরোয়া প্রতিকার:
- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীরকে পানিশূন্য হতে না দেওয়া। প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর অন্তত এক গ্লাস খাবার স্যালাইন (ORS) পান করুন।
- সহজপাচ্য খাবার যেমন – ভাতের মাড়, কাঁচকলা সেদ্ধ, আপেল সেদ্ধ, টোস্ট বিস্কুট খান।
- ডাবের জল পান করতে পারেন।
- চা, কফি, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন।
- বিশ্রাম নিন।
- ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে মায়ের দুধ বা ফর্মুলা দুধ চালিয়ে যেতে হবে এবং পাশাপাশি স্যালাইন দিতে হবে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন:
- তীব্র পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে (যেমন – খুব কম প্রস্রাব, চোখ বসে যাওয়া, ত্বক শুষ্ক ও ঢিলে হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা বা নিস্তেজ ভাব)।
- পায়খানার সাথে রক্ত বা শ্লেষ্মা গেলে।
- তীব্র পেট ব্যথা বা একটানা বমি হলে।
- উচ্চমাত্রার জ্বর থাকলে (১০২° ফারেনহাইট বা তার বেশি)।
- প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ২৪-৪৮ ঘণ্টার বেশি ডায়রিয়া থাকলে।
- শিশু, বৃদ্ধ বা দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতার ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া শুরু হলেই দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রতিরোধ:
- খাবার তৈরি ও খাওয়ার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন।
- বিশুদ্ধ পানীয় জল ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে জল ফুটিয়ে বা ফিল্টার করে পান করুন।
- বাসি বা খোলা খাবার খাবেন না।
- ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
- ছোট শিশুদের রোটাভাইরাসের টিকা দিন।
৯. কাটাছেঁড়া (Cuts and Lacerations):
রক্তপাত বন্ধ করা:
- প্রথমে নিজের হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন অথবা জীবাণুমুক্ত গ্লাভস পরুন।
- একটি পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত কাপড়, গজ বা ব্যান্ডেজ দিয়ে কাটা স্থানের উপর সরাসরি চাপ দিন।
- সাধারণত ৫-১০ মিনিট একটানা চাপ দিয়ে ধরে রাখলে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়।
- যদি রক্তপাত বেশি হয়, তাহলে ক্ষতস্থানটি হৃদপিণ্ডের চেয়ে উঁচু অবস্থানে রাখুন (যেমন, হাতে লাগলে হাত উঁচু করে ধরুন)।
ক্ষতস্থান পরিষ্কার করা:
- রক্তপাত বন্ধ হলে বা কমে গেলে, পরিষ্কার পানি (সম্ভব হলে হালকা গরম) এবং মৃদু সাবান দিয়ে ক্ষত ও এর চারপাশ আলতোভাবে পরিষ্কার করুন।
- ক্ষতের ভেতরে ময়লা বা অন্য কিছু থাকলে সাবধানে তা সরিয়ে ফেলুন। প্রয়োজন হলে জীবাণুমুক্ত চিমটা ব্যবহার করতে পারেন।
- অ্যালকোহল, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড বা আয়োডিন সরাসরি গভীর ক্ষতে ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এগুলো কোষের ক্ষতি করতে পারে। তবে ক্ষতস্থানের চারপাশে জীবাণুনাশক (যেমন স্যাভলন বা ডেটল দ্রবণ) ব্যবহার করা যেতে পারে।
অ্যান্টিবায়োটিক ও ড্রেসিং:
- ক্ষতস্থান শুকিয়ে যাওয়ার পর, একটি পাতলা স্তরের অ্যান্টিবায়োটিক মলম (যেমন: নিওমাইসিন বা ব্যাসিট্রাসিন) লাগানো যেতে পারে। এটি সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
- ক্ষতস্থানটি একটি জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ বা গজ দিয়ে ঢেকে দিন। এতে ক্ষতস্থানটি পরিষ্কার থাকবে এবং পুনরায় আঘাত থেকে বাঁচবে। প্রতিদিন অন্তত একবার বা ভিজলে/নোংরা হলে ড্রেসিং পরিবর্তন করুন।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন:
- রক্তপাত ১০-১৫ মিনিট চাপ দেওয়ার পরও বন্ধ না হলে।
- ক্ষত অনেক গভীর বা দীর্ঘ হলে (১/২ ইঞ্চির বেশি)।
- ক্ষতের ভেতরে ময়লা বা কিছু ঢুকে থাকলে যা বের করা যাচ্ছে না।
- পশুর বা মানুষের কামড়ে ক্ষত হলে।
- মরচে ধরা লোহা বা অপরিষ্কার কিছু দিয়ে কাটলে (টিটেনাস টিকার প্রয়োজন হতে পারে)।
- ক্ষতস্থানে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে (যেমন – লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া, গরম অনুভব হওয়া, পুঁজ জমা, জ্বর আসা)।
১০. পোড়া (Burns):
পোড়া প্রধানত তিন ধরনের হয় – প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ডিগ্রি।
প্রথম ডিগ্রি পোড়া (ত্বকের উপরের স্তর আক্রান্ত):
- পোড়া স্থানটি অবিলম্বে ১০-২০ মিনিট ধরে ঠান্ডা (বরফ-ঠান্ডা নয়) পানির নিচে রাখুন বা ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে মুড়ে দিন।
- অ্যালোভেরা জেল বা ময়েশ্চারাইজিং লোশন লাগাতে পারেন।
- ফোস্কা না পড়লে সাধারণত ব্যান্ডেজের প্রয়োজন হয় না।
- মাখন, তেল, টুথপেস্ট বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান লাগাবেন না।
দ্বিতীয় ডিগ্রি পোড়া (ত্বকের দুটি স্তর আক্রান্ত, ফোস্কা পড়ে):
- প্রথম ডিগ্রি পোড়ার মতোই ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন (১০-২০ মিনিট)।
- ফোস্কা গলাবেন না, এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
- হালকাভাবে জীবাণুমুক্ত নন-স্টিক গজ বা ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে রাখুন।
- প্রয়োজনে ব্যথা কমানোর জন্য প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন খেতে পারেন।
তৃতীয় ডিগ্রি পোড়া (ত্বকের সব স্তর ক্ষতিগ্রস্ত, চামড়া সাদা বা কালো হয়ে যেতে পারে)
- এটি একটি গুরুতর অবস্থা। অবিলম্বে হাসপাতালে যান বা অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন।
- পোড়া স্থানে কোনো প্রকার মলম, পানি বা অন্য কিছু লাগাবেন না।
- শরীরে লেগে থাকা পোড়া কাপড় সরানোর চেষ্টা করবেন না।
- রোগীকে পরিষ্কার, শুকনো কাপড় বা কম্বল দিয়ে জড়িয়ে রাখুন।
পোড়ার ক্ষেত্রে যা করবেন না:
- পোড়া স্থানে সরাসরি বরফ লাগাবেন না।
- ফোস্কা ফাটাবেন না।
- পোড়া স্থানে তুলা ব্যবহার করবেন না, কারণ এর আঁশ ক্ষতস্থানে আটকে যেতে পারে।
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো প্রকার ক্রিম বা লোশন গভীর পোড়ায় লাগাবেন না।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন (প্রথম ও দ্বিতীয় ডিগ্রির ক্ষেত্রে):
- পোড়া স্থানটি যদি মুখমণ্ডল, হাত, পা, যৌনাঙ্গ বা প্রধান জয়েন্টে হয়।
- পোড়া স্থানটি যদি হাতের তালুর চেয়ে বড় হয়।
- বৈদ্যুতিক বা রাসায়নিক পোড়া হলে।
- সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে।
- শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তি পুড়ে গেলে।
১১. আঘাত (সাধারণত থেঁতলানো, মচকানো বা কালশিটে):
- বিশ্রাম (Rest): আঘাতপ্রাপ্ত অঙ্গটিকে বিশ্রাম দিন। নড়াচড়া কম করুন।
- বরফ (Ice): আঘাতের প্রথম ২৪-৪৮ ঘণ্টা একটি কাপড়ে বরফ জড়িয়ে ১৫-২০ মিনিট ধরে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে লাগান। এটি ফোলা এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে। সরাসরি ত্বকে বরফ লাগাবেন না। প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পর পর এটি করা যেতে পারে।
- চাপ (Compression): ফোলা কমাতে ইলাস্টিক ক্রেপ ব্যান্ডেজ দিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানটি হালকাভাবে পেঁচিয়ে রাখতে পারেন। তবে খুব বেশি টাইট করে বাঁধবেন না, যাতে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়।
- উঁচু করে রাখা (Elevation): আঘাতপ্রাপ্ত স্থানটি, বিশেষ করে হাত বা পা হলে, হৃদপিণ্ডের চেয়ে উঁচু অবস্থানে রাখুন। এটিও ফোলা কমাতে সাহায্য করে।
- ব্যথানাশক: প্রয়োজনে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে পারেন।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন:
- অতিরিক্ত ব্যথা বা ফোলা যা কমছে না।
- আঘাতপ্রাপ্ত অঙ্গ নাড়াতে বা ভর দিতে পারছেন না।
- আঘাতপ্রাপ্ত স্থানের আকৃতিতে বিকৃতি দেখা দিলে (হাড় ভাঙার সন্দেহ)।
- আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে অবশভাব বা ঝিঁ ঝিঁ ধরা অনুভূতি হলে।
- মাথায় আঘাত লাগলে এবং জ্ঞান হারালে, বমি হলে, বা আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে।
১২. কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
সুস্বাস্থ্য আমাদের সকলেরই কাম্য। অনেক সময় ছোটখাটো শারীরিক সমস্যায় আমরা নিজেরাই কিছু প্রাথমিক যত্ন নিয়ে থাকি বা অপেক্ষা করি সেরে ওঠার জন্য। তবে কিছু কিছু উপসর্গ বা অবস্থা রয়েছে, যেগুলোকে অবহেলা করা একদমই উচিত নয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে রোগ দ্রুত নির্ণয় করা যায় এবং সঠিক চিকিৎসায় আরোগ্য লাভ সহজ হয়। নিচে এমন কিছু সাধারণ পরিস্থিতি উল্লেখ করা হলো যখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি:
১. তীব্র ও আকস্মিক উপসর্গ:
- তীব্র বুকে ব্যথা বা চাপ: বিশেষ করে যদি ব্যথা বাম হাত, চোয়াল বা পিঠের দিকে ছড়িয়ে যায়।
- হঠাৎ শ্বাসকষ্ট: নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা দম আটকে আসার মতো মনে হলে।
- জ্ঞান হারানো বা চেতনা কমে যাওয়া: অল্প সময়ের জন্য হলেও।
- তীব্র মাথাব্যথা: বিশেষ করে যদি এমন মাথাব্যথা আগে কখনো না হয়ে থাকে এবং এর সাথে বমি বা দৃষ্টি ঝাপসা হওয়ার মতো উপসর্গ থাকে।
- শরীরের কোনও অংশ হঠাৎ অবশ হয়ে যাওয়া বা দুর্বল লাগা: বিশেষ করে মুখ, হাত বা পা (স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে)।
- কথা জড়িয়ে যাওয়া বা বুঝতে অসুবিধা হওয়া।
- তীব্র পেটে ব্যথা: যা সহ্যের বাইরে চলে যায়।
- উচ্চমাত্রার জ্বর: যা সাধারণ ঔষধে কমছে না বা ক্রমাগত বাড়ছে (বিশেষত ১০৩° ফারেনহাইট বা ৩৯.৪° সেলসিয়াসের বেশি)।
- তীব্র রক্তপাত: যা বন্ধ হচ্ছে না।
২. দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার ফিরে আসা উপসর্গ:
- দীর্ঘদিন ধরে হালকা জ্বর থাকা।
- ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া।
- দীর্ঘস্থায়ী কাশি: বিশেষ করে যদি কাশির সাথে রক্ত যায়।
- কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন বা গলা ভাঙা যা দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়।
- মলত্যাগ বা প্রস্রাবের অভ্যাসের পরিবর্তন: যেমন – কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া যা দীর্ঘস্থায়ী, মলের সাথে রক্ত যাওয়া, প্রস্রাবে রক্ত বা জ্বালাপোড়া।
- ত্বকে নতুন কোনও দাগ, তিল বা ঘা: যা সারছে না, আকারে বাড়ছে বা রঙ পরিবর্তন করছে।
- শারীরিক দুর্বলতা বা ক্লান্তি: যা পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরেও যাচ্ছে না।
- ঘুমের মারাত্মক সমস্যা: দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা বা অতিরিক্ত ঘুম।
- ঘন ঘন মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের আক্রমণ।
৩. বিশেষ কিছু লক্ষণ:
- রক্তবমি, মলের সাথে তাজা রক্ত বা কালো আলকাতরার মতো মল।
- প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া।
- দৃষ্টিশক্তির আকস্মিক পরিবর্তন: যেমন – ঝাপসা দেখা, দুটো দেখা বা চোখে আলোর ঝলকানি দেখা।
- অকারণে শরীর ফুলে যাওয়া: বিশেষ করে পা বা মুখ।
- ত্বক বা চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিসের লক্ষণ)।
- শরীরে অস্বাভাবিক কোনও পিণ্ড বা ফোলা দেখা দিলে।
৪. মানসিক স্বাস্থ্য:
- তীব্র বিষণ্ণতা, হতাশা বা আত্মহত্যার চিন্তা।
- অতিরিক্ত উদ্বেগ বা আতঙ্ক (প্যানিক অ্যাটাক)।
- বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্নতা বা হ্যালুসিনেশন।
- স্মৃতিভ্রংশ বা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন।
৫. দুর্ঘটনা ও আঘাত:
- মাথায় কোনও প্রকার আঘাত লাগলে, বিশেষ করে যদি জ্ঞান হারান বা বমি হয়।
- হাড় ভাঙার সন্দেহ হলে বা জয়েন্টে তীব্র আঘাত লাগলে।
- গভীর (কাটা) বা পোড়া যা সাধারণ নয়।
- পশু বা পোকামাকড়ের কামড়, বিশেষ করে যদি বিষাক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
৬. ঔষধের প্রতিক্রিয়া:
কোনও নতুন ঔষধ শুরু করার পর শরীরে অ্যালার্জি বা অন্য কোনও গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে।
৭. সন্দেহ বা দুশ্চিন্তা:
- যদি আপনার নিজের বা পরিবারের কারও কোনও শারীরিক বা মানসিক উপসর্গ নিয়ে আপনি খুব বেশি চিন্তিত হন, এমনকি যদি তা উপরের তালিকায় উল্লেখ না-ও থাকে। নিজের শারীরিক অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
এই তালিকাটি সম্পূর্ণ নয়। প্রতিটি মানুষের শরীর ভিন্ন এবং রোগের লক্ষণও ভিন্ন হতে পারে। উপরে উল্লিখিত উপসর্গগুলো দেখা দিলে বা নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনও রকম সন্দেহ হলে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, প্রতিরোধ চিকিৎসার চেয়ে উত্তম এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে অনেক জটিলতা এড়ানো সম্ভব। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।