Do’s, Don’ts and Danger Signs During Pregnancy ( প্রেগনেন্সি অবস্থায় করণীয় এবং বর্জনীয় )

গর্ভাবস্থায় যা করবেন এবং যা এড়িয়ে চলবেন

গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে নিজের এবং অনাগত সন্তানের সুস্বাস্থ্যের জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা এবং কিছু অভ্যাস বর্জন করা অপরিহার্য। চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা উচিত।

গর্ভাবস্থায় করণীয় বিষয়সমূহ

সুষম খাদ্য গ্রহণ: গর্ভবতী মায়ের জন্য একটি সুষম খাদ্য তালিকা অত্যন্ত জরুরি। খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ এবং মৌসুমী ফল ও শাকসবজি রাখতে হবে। এই খাবারগুলো প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন এবং খনিজ সরবরাহ করে যা শিশুর বিকাশে সহায়তা করে।

পর্যাপ্ত পানি পান: গর্ভাবস্থায় শরীরকে সতেজ রাখতে এবং পানিশূন্যতা রোধ করতে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত।

হালকা ব্যায়াম ও হাঁটাচলা: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য হাঁটাচলা বা হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে। এটি শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং স্বাভাবিক প্রসবের জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করে।

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম: এই সময়ে দিনে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা এবং রাতে আট ঘণ্টা ঘুমানো আবশ্যক। ঘুমের সময় বাঁ-কাত হয়ে শোয়া ভালো। অতিরিক্ত পরিশ্রম হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন: গর্ভাবস্থায় মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলতে হবে। মনকে প্রফুল্ল রাখতে পছন্দের কাজ করা, গান শোনা বা মনোরম পরিবেশে ভ্রমণ করা যেতে পারে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে মা ও শিশুর যেকোনো শারীরিক সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: প্রতিদিন ভালোভাবে গোসল করা এবং হাত-পায়ের নখ ছোট রাখা উচিত। দাঁত ও মাড়ির বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন কারণ গর্ভাবস্থায় দাঁত নরম হয়ে যেতে পারে।

প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিটেনাস (টিটি) এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় টিকা সময়মতো নিতে হবে।

গর্ভাবস্থায় বর্জনীয় বিষয়সমূহ

ভারী কাজ ও অতিরিক্ত পরিশ্রম: ভারী জিনিস তোলা, ঘর মোছা বা অতিরিক্ত পরিশ্রম হয় এমন কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

অস্বাস্থ্যকর খাবার: বাইরের অস্বাস্থ্যকর ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত নয়। পেঁপে, আনারস, কলিজা ইত্যাদি কিছু খাবার গর্ভাবস্থায় বেশি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। কাঁচা ডিম খাওয়াও এড়িয়ে চলা উচিত।

ধূমপান ও মদ্যপান: গর্ভাবস্থায় ধূমপান ও মদ্যপান কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এটি গর্ভের শিশুর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। পরোক্ষ ধূমপানও এড়িয়ে চলা উচিত।

ক্যাফেইন গ্রহণ সীমিত করা: চা বা কফিতে থাকা ক্যাফেইন অতিরিক্ত গ্রহণ করলে তা ভ্রূণের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ সীমিত রাখতে হবে।

দীর্ঘ ভ্রমণ: গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস এবং শেষ তিন মাস দীর্ঘ ভ্রমণ এড়িয়ে চলা ভালো। উঁচু-নিচু বা ঝাঁকির আশঙ্কা আছে এমন যানবাহনে ভ্রমণ করা ক্ষতিকর হতে পারে।

সহবাসে সতর্কতা: গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস ও শেষ ১ মাস সহবাস পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ গ্রহণ: গর্ভকালীন সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত কোনো প্রকার ঔষধ সেবন করা যাবে না।

মনে রাখতে হবে, প্রতিটি গর্ভাবস্থা ভিন্ন এবং তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

গর্ভাবস্থার বিপদ সংকেত

কিছু লক্ষণ দেখা দিলে তা মা ও শিশুর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এসব চিহ্ন দেখা মাত্রই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

যোনিপথে রক্তপাত: গর্ভাবস্থার যেকোনো সময়ে রক্তস্রাব একটি বিপদ চিহ্ন।

তীব্র মাথাব্যথা ও চোখে ঝাপসা দেখা: এটি প্রি-এক্লাম্পসিয়ার লক্ষণ হতে পারে, যা উচ্চ রক্তচাপজনিত একটি মারাত্মক জটিলতা।

খিঁচুনি: গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় বা প্রসবের পরে খিঁচুনি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

ভীষণ জ্বর: শরীরের তাপমাত্রা ১০০.৪° ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে এবং তা তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে সতর্ক হতে হবে।

প্রসব ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হওয়া: প্রসব ব্যথা ১২ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হলে তাকে বিলম্বিত প্রসব বলা হয়, যা মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

শরীরে পানি আসা: পায়ে অতিরিক্ত পানি এসে পা ভারি হয়ে গেলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

বাচ্চার নড়াচড়া কমে যাওয়া: পেটের ভেতর বাচ্চার নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে বা হঠাৎ বেড়ে গেলে তা বিপদ সংকেত হতে পারে।

প্রতিটি গর্ভাবস্থা স্বতন্ত্র। তাই যেকোনো নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বা কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Translate »
error: Content is protected !!