ফিট থাকার গোপন রহস্য ( Fit thakar upay )
ফিট থাকার কোনো একক ‘গোপন রহস্য’ নেই। এটি আসলে একটি সমন্বিত জীবনধারা, যা ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং ধারাবাহিকতার ওপর নির্ভরশীল। ফিট থাকার জন্য কয়েকটি মূল স্তম্ভ রয়েছে, যা অনুসরণ করলে আপনি দীর্ঘমেয়াদী সুস্থ জীবন বজায় রাখতে পারবেন। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. নিয়মিত ব্যায়াম (Regular Exercise):
ব্যায়াম ফিট থাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি শুধু পেশি তৈরি বা ওজন কমাতেই সাহায্য করে না, হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য উন্নত করে, মানসিক চাপ কমায় এবং সামগ্রিক শক্তি বাড়ায়।
কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম (Cardiovascular Exercise): হাঁটা, জগিং, সাইক্লিং, সাঁতার, নাচ ইত্যাদি হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ায়। সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি তীব্রতার অথবা ৭৫ মিনিট উচ্চ তীব্রতার কার্ডিও ব্যায়াম করার লক্ষ্য রাখুন।
শক্তি প্রশিক্ষণ (Strength Training): ভারোত্তোলন, বডিওয়েট ব্যায়াম (যেমন: পুশ-আপ, স্কোয়াট) পেশি তৈরি ও হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। সপ্তাহে ২-৩ দিন শক্তি প্রশিক্ষণ করুন।
নমনীয়তা ও ভারসাম্য (Flexibility and Balance): যোগা, স্ট্রেচিং, তাই চি শরীরের নমনীয়তা বাড়ায় এবং আঘাতের ঝুঁকি কমায়। প্রতিদিন কিছুক্ষণ স্ট্রেচিং করা উচিত।
টিপস: আপনার পছন্দ অনুযায়ী ব্যায়াম বেছে নিন, যাতে দীর্ঘ সময় ধরে এটি চালিয়ে যেতে পারেন। ছোট ছোট করে শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে তীব্রতা বাড়ান।
২. সুষম খাদ্য গ্রহণ (Balanced Diet):
আপনার শরীরকে সঠিক জ্বালানি সরবরাহ করা ফিট থাকার জন্য অপরিহার্য। জাঙ্ক ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় ত্যাগ করে পুষ্টিকর খাবারকে প্রাধান্য দিন।
প্রচুর ফল ও শাকসবজি: ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের অন্যতম উৎস। প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন রঙের ফল ও শাকসবজি রাখুন।
আস্ত শস্য (Whole Grains): বাদামী চাল, ওটস, আস্ত গমের রুটি ইত্যাদি জটিল কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবার সরবরাহ করে, যা দীর্ঘক্ষণ শক্তি দেয়।
চর্বিহীন প্রোটিন (Lean Protein): ডিম, মুরগির মাংস, মাছ, ডাল, মটরশুঁটি, পনির পেশি তৈরি ও মেরামতের জন্য জরুরি।
স্বাস্থ্যকর চর্বি (Healthy Fats): বাদাম, বীজ, অ্যাভোকাডো, অলিভ অয়েল, ফ্যাটি মাছ (যেমন স্যামন) শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় চর্বি সরবরাহ করে।
সীমিত করুন: প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি, অস্বাস্থ্যকর চর্বি (ট্রান্স ফ্যাট) এবং অতিরিক্ত লবণ পরিহার করুন।
টিপস: পর্যাপ্ত জল পান করুন। ছোট ছোট ভাগে সারাদিনে খাবার গ্রহণ করুন। রাতের খাবার হালকা রাখুন।
৩. পর্যাপ্ত ঘুম (Adequate Sleep):
অনেক সময় ঘুমের গুরুত্বকে অবমূল্যায়ন করা হয়, কিন্তু এটি ফিট থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গুরুত্ব: পর্যাপ্ত ঘুম পেশি পুনরুদ্ধার, হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং শক্তি ধরে রাখার জন্য অপরিহার্য। ঘুমের অভাবে ওজন বৃদ্ধি, মেজাজের পরিবর্তন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
পরিমাণ: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি।
টিপস: একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। ঘুমানোর আগে মোবাইল/ল্যাপটপের স্ক্রিন দেখা থেকে বিরত থাকুন। শোবার ঘর অন্ধকার ও শান্ত রাখুন।
৪. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ (Stress Management):
মানসিক চাপ শরীরের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ফিট থাকার পথে বাধা সৃষ্টি করে।
গুরুত্ব: দীর্ঘস্থায়ী চাপ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ওজন বৃদ্ধি করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
পদ্ধতি: যোগা, মেডিটেশন, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, প্রকৃতির সাথে সময় কাটানো, পছন্দের কাজ করা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া ইত্যাদি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
৫. পর্যাপ্ত জল পান (Adequate Hydration):
পানি ছাড়া শরীর সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।
গুরুত্ব: বিপাক ক্রিয়া সচল রাখা, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঠিক কার্যকারিতা এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত জল পান অপরিহার্য।
পরিমাণ: প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করার লক্ষ্য রাখুন। ব্যায়ামের সময় বা গরম আবহাওয়ায় এর পরিমাণ বাড়ানো উচিত।
টিপস: একটি জলের বোতল সাথে রাখুন এবং নিয়মিত জল পান করুন।
৬. ধারাবাহিকতা ও ধৈর্য (Consistency and Patience):
ফিটনেস একটি যাত্রা, কোনো গন্তব্য নয়। রাতারাতি কোনো পরিবর্তন হয় না।
গুরুত্ব: ছোট ছোট পদক্ষেপ নিন এবং সেগুলোকে অভ্যাসে পরিণত করুন। একদিনের ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে আবার শুরু করুন।
টিপস: বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। নিজের অগ্রগতি ট্র্যাক করুন, যা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে।
৭. নিজের শরীরকে বুঝুন (Listen to Your Body):
আপনার শরীর আপনার সেরা শিক্ষক।
গুরুত্ব: ক্লান্তি অনুভব করলে বিশ্রাম নিন। কোনো ব্যায়াম করতে গিয়ে ব্যথা পেলে থামুন। শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিলে তা আপনাকে আরও শক্তি নিয়ে ফিরে আসতে সাহায্য করবে।
৮. বৈচিত্র্য আনুন (Incorporate Variety):
একই ধরনের ব্যায়াম বা ডায়েট দীর্ঘ সময় ধরে অনুসরণ করলে শরীর অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং অগ্রগতি ধীর হয়ে যেতে পারে (Plateau)। এছাড়া একঘেয়েমি চলে আসতে পারে।
ব্যায়ামের ক্ষেত্রে: আপনার ব্যায়াম রুটিনে পরিবর্তন আনুন। যেমন, এক সপ্তাহ কার্ডিও করলেন তো পরের সপ্তাহে শক্তি প্রশিক্ষণে জোর দিলেন। নতুন ধরনের খেলাধুলায় অংশ নিন (যেমন: ব্যাডমিন্টন, ফুটবল), বা নতুন কোনো ব্যায়াম ক্লাস (যেমন: জুুম্বা, অ্যারোবিক্স) চেষ্টা করুন।
খাবারের ক্ষেত্রে: একই ধরনের সবজি বা প্রোটিন না খেয়ে বিভিন্ন ধরনের ফল, সবজি, ডাল, মাছ, মাংস ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খান। এতে শরীর বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি পাবে এবং একঘেয়েমি কাটবে।
৯. অগ্রগতি ট্র্যাক করুন (Track Your Progress):
আপনার অগ্রগতি সম্পর্কে সচেতন থাকা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে এবং কোন পদ্ধতি কাজ করছে তা বুঝতে সাহায্য করবে।
ব্যায়ামের ক্ষেত্রে: একটি লগবুকে আপনার ব্যায়ামের ধরন, সময়, ওজন (যদি শক্তি প্রশিক্ষণ করেন) অথবা দূরত্ব (যদি দৌড়ান) লিখে রাখুন। সপ্তাহে একবার আপনার শরীরের পরিমাপ নিন (যেমন: কোমর, বুক, হাতের মাপ) অথবা ওজন মাপুন।
খাবারের ক্ষেত্রে: কিছুদিন ধরে আপনার খাবারের তালিকা লিখে রাখতে পারেন। এতে আপনি বুঝতে পারবেন কোথায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
টিপস: আপনার ছবি তুলে রাখতে পারেন (মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে) – অনেক সময় সংখ্যায় পরিবর্তন না এলেও শারীরিক গঠনে পরিবর্তন আসে, যা ছবি দেখলে বোঝা যায়।
১০. পেশাদার সহায়তা নিন (Seek Professional Help When Needed):
সবসময় সবকিছুর সমাধান নিজে খুঁজে পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।
ফিটনেস প্রশিক্ষক: যদি আপনার কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে (যেমন: ম্যারাথনে অংশ নেওয়া, পেশি তৈরি করা) অথবা আপনি জানেন না কিভাবে ব্যায়াম শুরু করবেন, তাহলে একজন সার্টিফাইড ফিটনেস প্রশিক্ষকের সাহায্য নিতে পারেন। তারা আপনাকে সঠিক ফর্ম, কার্যকরী রুটিন এবং আঘাত এড়ানোর কৌশল শেখাতে পারবে।
পুষ্টিবিদ/ডায়েটিশিয়ান: যদি আপনার ওজন কমাতে বা বাড়াতে সমস্যা হয়, কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত অবস্থা থাকে (যেমন: ডায়াবেটিস, থাইরয়েড) বা আপনি নিশ্চিত নন কোন খাবার আপনার জন্য ভালো, তাহলে একজন নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিন।
চিকিৎসক: কোনো নতুন ব্যায়াম রুটিন শুরু করার আগে, বিশেষ করে যদি আপনার কোনো দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে, চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা বুদ্ধিমানের কাজ।
১১. ছোট বিজয় উদযাপন করুন (Celebrate Small Victories):
ফিটনেসের যাত্রা দীর্ঘ এবং চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তাই ছোট ছোট সাফল্যগুলো উদযাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ: এক মিনিট বেশি দৌড়াতে পারলেন, একটি কঠিন ব্যায়াম সফলভাবে সম্পন্ন করলেন, অথবা এক সপ্তাহ জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চললেন – এই সবই ছোট বিজয়। নিজেকে পুরস্কৃত করুন (যেমন: পছন্দের বই কিনুন, সিনেমা দেখুন, আরামদায়ক স্নান করুন – খাবার দিয়ে পুরস্কার দেবেন না)।
গুরুত্ব: এটি আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং আপনাকে পরবর্তী ধাপের জন্য অনুপ্রাণিত করবে।
১২. নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হন (Be Kind to Yourself):
প্রতিটা দিন একই রকম যাবে না। কখনো কখনো আপনার শরীর ও মন ক্লান্ত থাকতে পারে।
মেনে নিন: মাঝে মাঝে ব্যায়াম রুটিন মিস হতে পারে বা পছন্দের খাবার বেশি খাওয়া হতে পারে। এতে নিজেকে দোষারোপ না করে, পরের দিন থেকে আবার সঠিক পথে ফিরে আসুন।
সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা: আপনার শরীর যে কাজগুলো করতে পারে, তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন। এটি আপনাকে ইতিবাচক মনোভাব রাখতে সাহায্য করবে।
১৩. পরিবেশের প্রভাব (Environmental Influence):
আপনার চারপাশের পরিবেশ আপনার ফিটনেস যাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।
বাসা ও কর্মক্ষেত্র: চেষ্টা করুন আপনার ঘরে বা কাজের জায়গায় স্বাস্থ্যকর খাবার রাখুন। ব্যায়ামের পোশাক বা সরঞ্জাম হাতের কাছে রাখুন যাতে ব্যায়াম করার অনুপ্রেরণা পান।
সামাজিক বৃত্ত: যারা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করেন, তাদের সাথে বেশি সময় কাটান। তাদের ইতিবাচক প্রভাব আপনাকেও অনুপ্রাণিত করবে।
১৪. গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস ও সচেতনতা (Deep Breathing & Mindfulness):
ফিটনেস শুধু শারীরিক নয়, মানসিক সুস্থতারও ব্যাপার।
শ্বাস-প্রশ্বাস: দিনে কয়েকবার গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। এটি মানসিক চাপ কমাতে এবং শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করে।
সচেতনতা: আপনি যখন খাবার খাচ্ছেন বা ব্যায়াম করছেন, তখন সম্পূর্ণ মনোযোগ দিন। খাবারের স্বাদ, গন্ধ, টেক্সচার অনুভব করুন। ব্যায়ামের সময় শরীরের প্রতিটি পেশি কীভাবে কাজ করছে তা লক্ষ্য করুন। এটি আপনাকে আপনার শরীরের সাথে আরও ভালোভাবে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করবে।
১৫. বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধার (Rest and Recovery):
ফিটনেসের আলোচনায় ব্যায়াম ও খাদ্যের উপর বেশি জোর দেওয়া হয়, কিন্তু বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধার সমান গুরুত্বপূর্ণ। আপনার শরীর ব্যায়ামের মাধ্যমে যে স্ট্রেসের মধ্য দিয়ে যায়, তা থেকে সেরে উঠতে এবং পেশি মেরামত করতে বিশ্রামের প্রয়োজন।
পেশি মেরামত: ব্যায়ামের সময় পেশিতে ছোট ছোট ছিঁড়ে যায়। এই ছিঁড়ে যাওয়া পেশিগুলো বিশ্রামের সময় মেরামত হয় এবং শক্তিশালী হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিলে পেশি দুর্বল থাকতে পারে এবং আঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অ্যাক্টিভ রিকভারি: এর অর্থ হলো হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের রক্ত প্রবাহ বাড়ানো, যেমন হালকা হাঁটা, যোগা বা স্ট্রেচিং। এটি পেশির ব্যথা কমাতে এবং ল্যাকটিক অ্যাসিড দূর করতে সাহায্য করে।
ফোম রোলিং ও স্ট্রেচিং: ব্যায়ামের পর বা বিশ্রামের দিনে পেশি নমনীয় রাখতে এবং ব্যথা কমাতে ফোম রোলিং ও ডাইনামিক/স্ট্যাটিক স্ট্রেচিং খুব কার্যকর।
গুরুত্বপূর্ণ: আপনার সাপ্তাহিক রুটিনে অন্তত ১-২ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রাম বা অ্যাক্টিভ রিকভারির জন্য রাখুন।
১৬. সামাজিক সমর্থন ও কমিউনিটি (Social Support & Community):
ফিটনেস যাত্রা একা করার চেয়ে অন্যদের সাথে করা অনেক বেশি সহজ এবং মজাদার হতে পারে।
অনুপ্রেরণা: বন্ধু, পরিবার বা একটি ফিটনেস কমিউনিটির অংশ হওয়া আপনাকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। যখন আপনার অনুপ্রেরণা কমে যাবে, তখন অন্যেরা আপনাকে সাহায্য করবে।
দায়বদ্ধতা: একজন ওয়ার্কআউট পার্টনার থাকলে আপনার ব্যায়াম মিস করার সম্ভাবনা কমে যায়, কারণ আপনি আরেকজনের প্রতি দায়বদ্ধ থাকেন।
আনন্দ: দলবদ্ধভাবে ব্যায়াম করা (যেমন গ্রুপ ক্লাস, হাইকিং) অনেক বেশি আনন্দদায়ক হতে পারে এবং এটি ফিটনেসকে দীর্ঘমেয়াদী অভ্যাসে পরিণত করতে সাহায্য করে।
টিপস: জিমে বন্ধু তৈরি করুন, গ্রুপ ব্যায়াম ক্লাসে যোগ দিন, অথবা আপনার পরিবারকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রায় উৎসাহিত করুন।
১৭. বাস্তবসম্মত ও টেকসই লক্ষ্য নির্ধারণ (Setting Sustainable and Realistic Goals):
অবাস্তব লক্ষ্য নির্ধারণ করলে দ্রুত হতাশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফিটনেস একটি ম্যারাথন, স্প্রিন্ট নয়।
ছোট ছোট লক্ষ্য: “এক মাসে ১০ কেজি কমাবো” এর বদলে “প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটবো এবং সপ্তাহে ৩ বার সবজি খাবো” – এমন ছোট ছোট এবং অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। এই ছোট লক্ষ্যগুলো অর্জনের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বাড়বে।
দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি: ফিটনেসকে একটি জীবনধারায় পরিণত করার চেষ্টা করুন, স্বল্পমেয়াদী সমাধান হিসেবে নয়। এমন পরিবর্তন আনুন যা আপনি সারা জীবন ধরে রাখতে পারবেন।
প্রক্রিয়া-ভিত্তিক লক্ষ্য: ফলাফলের উপর বেশি জোর না দিয়ে প্রক্রিয়ার উপর জোর দিন। যেমন, “সপ্তাহে ৫ দিন ব্যায়াম করব” এটি একটি প্রক্রিয়া-ভিত্তিক লক্ষ্য। ফলাফল (ওজন কমানো বা পেশি তৈরি) এর একটি পার্শ্ব-উৎপাদন হবে।
SMART লক্ষ্য: আবারও মনে করিয়ে দেওয়া ভালো – Specific (নির্দিষ্ট), Measurable (পরিমাপযোগ্য), Achievable (অর্জনযোগ্য), Relevant (প্রাসঙ্গিক), Time-bound (সময়সীমাযুক্ত) লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।
১৮. আপনার শরীরকে বুঝুন এবং অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ এড়ান (Understand Your Body & Avoid Overtraining):
প্রত্যেকের শরীর আলাদা এবং ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। নিজের শরীরের সংকেতগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
ব্যক্তিগত চাহিদা: আপনার বন্ধুর জন্য যা কাজ করছে, তা আপনার জন্য কাজ নাও করতে পারে। আপনার বয়স, লিঙ্গ, স্বাস্থ্য অবস্থা এবং ফিটনেস লেভেলের উপর ভিত্তি করে আপনার রুটিন তৈরি করুন।
ওভারট্রেনিং (Overtraining): অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ঘুমের সমস্যা হয়, মেজাজ খিটখিটে হয় এবং আঘাতের ঝুঁকি বাড়ে। পেশি তৈরিতেও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
লক্ষণ: দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, দুর্বল পারফরম্যান্স, ঘুমের সমস্যা, ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া, মেজাজের পরিবর্তন, জয়েন্টে ব্যথা ইত্যাদি ওভারট্রেনিংয়ের লক্ষণ হতে পারে।
করণীয়: যদি এই লক্ষণগুলো দেখেন, তাহলে বিশ্রাম নিন, রুটিন পরিবর্তন করুন বা একজন পেশাদারের সাথে কথা বলুন।
১৯. খাবারের প্রস্তুতির গুরুত্ব (Importance of Meal Preparation):
স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণকে সহজ করার জন্য খাবার প্রস্তুত করা অত্যন্ত কার্যকর।
সময় বাঁচানো: ছুটির দিনে বা সপ্তাহের শুরুতে কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিলে ব্যস্ত দিনে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।
নিয়ন্ত্রণ: আপনি কি খাচ্ছেন এবং কতটুকু খাচ্ছেন তার উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ থাকে।
উদাহরণ: প্রোটিন রান্না করে রাখা, সবজি কেটে রাখা, স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস (বাদাম, ফল) হাতের কাছে রাখা।
২০. প্রাকৃতিক আলো এবং ভিটামিন ডি (Natural Light and Vitamin D):
এটি প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়, কিন্তু সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুবিধা: পর্যাপ্ত সূর্যালোক ভিটামিন ডি সংশ্লেষণে সাহায্য করে, যা হাড়ের স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মেজাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যের আলো ঘুমের চক্র (circadian rhythm) নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে।
টিপস: প্রতিদিন সকালে কিছু সময় বাইরে কাটান। যদি সম্ভব হয়, সকালে হাঁটার অভ্যাস করুন।