হারবাল ঔষধের নাম, কাজ, চিকিৎসা, খাওয়ার নিয়ম।
হারবাল ঔষধের মাধ্যমে দশটি কমন চিকিৎসা ব্যবহৃত হয় এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদের নাম ও তাদের ব্যবহার নিচে দেওয়া হলো:
হলুদ (Turmeric/Curcuma longa):
ব্যবহার: প্রদাহরোধী, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আর্থ্রাইটিস, হজমের সমস্যা এবং ত্বকের বিভিন্ন অবস্থার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
আদা (Ginger/Zingiber officinale):
ব্যবহার: বমি বমি ভাব, হজমের সমস্যা, সর্দি-কাশি এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
তুলসী (Holy Basil/Ocimum sanctum):
ব্যবহার: স্ট্রেস কমানো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, সর্দি-কাশি এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় উপকারী।
অশ্বগন্ধা (Ashwagandha/Withania somnifera):
ব্যবহার: স্ট্রেস, উদ্বেগ কমানো, শক্তি বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে।
কালোজিরা (Nigella Sativa/Black Seed):
ব্যবহার: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রদাহরোধী এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, যেমন হাঁপানিতে উপকারী।
নিম (Neem/Azadirachta indica):
ব্যবহার: অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল। ত্বকের সমস্যা, ডায়াবেটিস এবং দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য ব্যবহৃত হয়।
অ্যালোভেরা (Aloe Vera):
ব্যবহার: ত্বকের জ্বালা, পোড়া, শুষ্কতা নিরাময়ে এবং হজম স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য ব্যবহৃত হয়।
গোলমরিচ (Black Pepper/Piper nigrum) ও পিপুল (Long Pepper/Piper longum):
ব্যবহার: হজমের উন্নতি, শোষণে সহায়তা এবং সর্দি-কাশির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
ত্রিফলা (Triphala – আমলকী, হরিতকী, বহেড়া):
ব্যবহার: হজম সহায়ক, ডিটক্সিফিকেশন এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
সর্পগন্ধা (Indian Snakeroot/Rauvolfia serpentina):
ব্যবহার: উচ্চ রক্তচাপ এবং অনিদ্রা কমাতে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে এটি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত।
জিনসেং (Ginseng – Panax ginseng):
ব্যবহার: শক্তি বৃদ্ধি, মনোযোগ উন্নত করা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্ট্রেস কমানোর জন্য পরিচিত।
ক্যামোমাইল (Chamomile – Matricaria chamomilla):
ব্যবহার: ঘুম আনতে, উদ্বেগ কমাতে, হজমের সমস্যা দূর করতে এবং ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এটি চা হিসেবে খুব জনপ্রিয়।
মিল্ক থিসল (Milk Thistle – Silybum marianum):
ব্যবহার: লিভারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং লিভারের ক্ষতি সারিয়ে তুলতে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত হয়।
সেন্ট জন’স ওয়ার্ট (St. John’s Wort – Hypericum perforatum):
ব্যবহার: হালকা থেকে মাঝারি বিষণ্ণতা এবং উদ্বেগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তবে, এটি অন্যান্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে, তাই সতর্ক থাকতে হবে।
ইচিনেসিয়া (Echinacea – Echinacea purpurea):
ব্যবহার: সর্দি-কাশি এবং ফ্লু-এর লক্ষণ কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
জিঙ্কো বিলোবা (Ginkgo Biloba):
ব্যবহার: মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করা, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে।
ল্যাভেন্ডার (Lavender – Lavandula angustifolia):
ব্যবহার: আরাম দিতে, উদ্বেগ ও অনিদ্রা কমাতে এবং ত্বকের প্রদাহ কমাতে এর এসেনশিয়াল তেল ব্যবহৃত হয়।
স্পিয়ারমিন্ট (Spearmint – Mentha spicata):
ব্যবহার: হজমের সমস্যা, বমি বমি ভাব এবং পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। এটি রিফ্রেশিং চা হিসেবেও জনপ্রিয়।
লিকোরিস রুট (Licorice Root – Glycyrrhiza glabra):
ব্যবহার: হজমের সমস্যা, পেটের আলসার, কাশি এবং প্রদাহ কমাতে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত হয়।
ভ্যালেরিয়ান রুট (Valerian Root – Valeriana officinalis):
ব্যবহার: অনিদ্রা এবং উদ্বেগ কমাতে একটি প্রাকৃতিক ঘুমের সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।