অর্শ বা পাইলস, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হেমোরয়েডস (Hemorrhoids) নামে পরিচিত, এটি একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা যেখানে মলদ্বার বা এর নিম্নভাগের শিরাগুলো ফুলে যায় এবং স্ফীত হয়। অনেকেই এই সমস্যায় ভুগে থাকলেও সংকোচবশত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করেন, যা রোগটিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

পাইলস বা অর্শ রোগের প্রকারভেদ

অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে পাইলস মূলত দুই প্রকারের হয়:

অভ্যন্তরীণ পাইলস (Internal Hemorrhoids): এটি মলদ্বারের ভেতরে থাকে। সাধারণত এক্ষেত্রে ব্যথা হয় না, তবে মলত্যাগের সময় উজ্জ্বল লাল রক্ত দেখা যেতে পারে। কখনো কখনো এই পাইলস মলদ্বারের বাইরে ঝুলে পড়তে পারে। স্থানচ্যুতির মাত্রা অনুযায়ী এটিকে চারটি গ্রেডে ভাগ করা হয়।

বাহ্যিক পাইলস (External Hemorrhoids): এটি মলদ্বারের মুখের চারপাশে বা বাইরের ত্বকের নিচে তৈরি হয়। এই ধরনের পাইলসে ব্যথা, চুলকানি এবং অস্বস্তি হতে পারে। কখনও কখনও এখানে রক্ত জমাট বেঁধে (থ্রম্বোসিস) তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে।

অভ্যন্তরীণ পাইলসের বিভিন্ন পর্যায় (গ্রেড)

অভ্যন্তরীণ পাইলসকে এর তীব্রতা এবং মলদ্বারের বাইরে কতটা ঝুলে পড়ে, তার ওপর ভিত্তি করে চারটি গ্রেডে ভাগ করা হয়। এই গ্রেডিং সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে নিতে সাহায্য করে।

  • গ্রেড-১: এই পর্যায়ে পাইলস মলদ্বারের ভেতরেই থাকে এবং বাইরে বেরিয়ে আসে না। প্রধান লক্ষণ হলো মলত্যাগের সময় ব্যথাহীন রক্তপাত।
  • গ্রেড-২: মলত্যাগের সময় পাইলস বা মাংসপিণ্ড বাইরে বেরিয়ে আসে, কিন্তু মলত্যাগ শেষ হলে তা নিজে থেকেই ভেতরে ঢুকে যায়। এক্ষেত্রেও রক্তপাত হতে পারে।
  • গ্রেড-৩: এই পর্যায়ে পাইলস মলত্যাগের সময় বাইরে বেরিয়ে আসে, কিন্তু নিজে থেকে ভেতরে যায় না। এটিকে আঙুলের সাহায্যে ভেতরে প্রবেশ করাতে হয়।
  • গ্রেড-৪: এটি সবচেয়ে জটিল পর্যায়। এক্ষেত্রে পাইলস সব সময় মলদ্বারের বাইরেই ঝুলে থাকে এবং এটিকে আর ভেতরে প্রবেশ করানো সম্ভব হয় না। এর ফলে তীব্র ব্যথা, রক্ত জমাট বাঁধা বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।

পাইলসের জটিলতা

যদি সঠিক সময়ে পাইলসের চিকিৎসা করা না হয় বা রোগটিকে অবহেলা করা হয়, তবে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে:

রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া: দীর্ঘ সময় ধরে অল্প পরিমাণে রক্তপাতের কারণে শরীরে রক্তের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা থেকে রক্তাল্পতা হতে পারে। এর ফলে রোগী দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে পারেন।

থ্রম্বোসিস (Thrombosis): বাহ্যিক পাইলসের ক্ষেত্রে রক্তনালীর ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে। এর ফলে মলদ্বারের কাছে একটি শক্ত ও অত্যন্ত বেদনাদায়ক পিণ্ড তৈরি হয়।

স্ট্র্যাঙ্গুলেটেড পাইলস (Strangulated Hemorrhoid): যখন অভ্যন্তরীণ পাইলস বাইরে ঝুলে পড়ে এবং মলদ্বারের মাংসপেশি দ্বারা চেপে আটকে যায়, তখন সেখানে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে তীব্র ব্যথা এবং টিস্যুর পচন (গ্যাংগ্রিন) শুরু হতে পারে, যা একটি জরুরি অবস্থা।

ইনফেকশন বা সংক্রমণ: বেরিয়ে আসা পাইলসে ঘা বা ইনফেকশন হতে পারে, যা থেকে ব্যথা ও জ্বর হতে পারে।

অস্বস্তি ও জীবনযাত্রার মানে প্রভাব: দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, চুলকানি এবং রক্তপাতের কারণে রোগীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আত্মবিশ্বাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

অর্শ বা পাইলস কেন হয়?

পাইলসের সঠিক কারণ পুরোপুরি জানা না গেলেও কিছু বিষয় এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। মলদ্বারের শিরাগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়াই এর মূল কারণ।
সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া: মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের ফলে শিরাগুলো ফুলে যেতে পারে।
  • খাদ্যাভ্যাস: খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবারের অভাব এবং অপর্যাপ্ত পানি পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে, যা পাইলসের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • অনিয়মিত মলত্যাগের অভ্যাস: দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা বা মলত্যাগের সময় বেশি চাপ দেওয়ার অভ্যাস ক্ষতিকর।
  • গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় জরায়ুর আকার বৃদ্ধির কারণে এবং হরমোনের পরিবর্তনে মলদ্বারের শিরাগুলোতে চাপ বাড়ে, যা পাইলসের কারণ হতে পারে।
  • স্থূলতা ও জীবনযাত্রা: অতিরিক্ত ওজন, দীর্ঘ সময় ধরে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা এবং ভারী বস্তু তোলার কাজ পাইলসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
  • বংশগত: পরিবারে কারও পাইলস থাকলে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

পাইলসের সাধারণ লক্ষণসমূহ

পাইলসের লক্ষণগুলো এর ধরন এবং তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। সাধারণ কিছু লক্ষণ হলো:

  • রক্তপাত: মলত্যাগের সময় বা পরে ব্যথাহীন উজ্জ্বল লাল রক্ত দেখা যাওয়া পাইলসের একটি প্রধান লক্ষণ।
  • ব্যথা ও অস্বস্তি: বিশেষ করে বাহ্যিক পাইলসের ক্ষেত্রে মলদ্বারের চারপাশে ব্যথা, চুলকানি বা জ্বালা হতে পারে।
  • ফোলা বা পিণ্ড: মলদ্বারের মুখে বা এর চারপাশে ফোলা বা পিণ্ডের মতো অনুভূতি হতে পারে, যা স্পর্শ করলে ব্যথা লাগে।
  • মাংসপিণ্ড ঝুলে পড়া: অভ্যন্তরীণ পাইলস বড় হলে মলত্যাগের সময় মলদ্বারের বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে।
  • শ্লেষ্মা স্রাব: মলত্যাগের পর শ্লেষ্মা নিঃসৃত হতে পারে, যা চুলকানি বা জ্বালার কারণ হয়।

পাইলস প্রতিরোধে করণীয়

প্রতিরোধই সর্বোত্তম চিকিৎসা। কিছু নিয়ম মেনে চললে অর্শ বা পাইলস হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়।

ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি, ফলমূল, সালাদ, লাল আটার রুটি এবং ইসবগুলের ভুসি অন্তর্ভুক্ত করুন। আঁশযুক্ত খাবার মলকে নরম করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।

পর্যাপ্ত পানি পান: দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। এটি মল নরম রাখতে সাহায্য করে।

মলত্যাগের অভ্যাস:

  • মলত্যাগের বেগ এলে আটকে রাখবেন না।
  • টয়লেটে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করবেন না বা বসে বই/পেপার পড়া থেকে বিরত থাকুন।
  • মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ বা কোঁত দেওয়া পরিহার করুন।

নিয়মিত ব্যায়াম: প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাচলার অভ্যাস করুন। শারীরিক সচলতা অন্ত্রের কার্যক্রমকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা: অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা মলদ্বারের শিরার ওপর চাপ বাড়ায়, তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

কিছু অভ্যাস পরিহার: দীর্ঘ সময় ধরে এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন। ভারী জিনিস তোলার সময় সঠিক কৌশল অবলম্বন করুন।

পাইলস নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও বাস্তবতা

পাইলস নিয়ে সমাজে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, যা সঠিক চিকিৎসা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে।

ভুল ধারণা ১: মলদ্বারের যেকোনো সমস্যাই পাইলস।
বাস্তবতা: এটি একটি বড় ভুল ধারণা। মলদ্বার বা পায়ুপথে ফিসার (ফেটে যাওয়া), ফিস্টুলা (নালি), অ্যাবসেস (ফোঁড়া) এবং ক্যান্সারের মতো বিভিন্ন রোগ হতে পারে। এগুলোর প্রত্যেকটির লক্ষণ ও চিকিৎসা ভিন্ন। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে সঠিক রোগ নির্ণয় করা অপরিহার্য।

ভুল ধারণা ২: পাইলস থেকে ক্যান্সার হয়।
বাস্তবতা: পাইলস এবং ক্যান্সারের মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই। তবে পাইলসের কিছু লক্ষণ, যেমন- মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত, কোলন বা রেক্টাল ক্যান্সারেরও লক্ষণ হতে পারে। এজন্য রক্তপাত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, বিশেষ করে বয়স পঞ্চাশের বেশি হলে কোলনোস্কোপি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভুল ধারণা ৩: পাইলসের একমাত্র চিকিৎসা অপারেশন।
বাস্তবতা: এটি সঠিক নয়। প্রায় ৯০ ভাগ পাইলস রোগী অস্ত্রোপচার ছাড়াই ভালো হয়ে যান। প্রাথমিক পর্যায়ে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং ওষুধের মাধ্যমেই এর চিকিৎসা সম্ভব।

ভুল ধারণা ৪: একবার অপারেশন করলে পাইলস আবার হয়।
বাস্তবতা: সঠিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হলে এবং অপারেশনের পর জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনলে (যেমন: কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ) পাইলস পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি

রোগের পর্যায় বা গ্রেডের ওপর ভিত্তি করে পাইলসের চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।

বিনা অস্ত্রোপচারে চিকিৎসা:
রাবার ব্যান্ড লাইগেশন (Rubber Band Ligation): এটি অভ্যন্তরীণ পাইলসের জন্য খুব কার্যকর একটি পদ্ধতি। একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে পাইলসের গোড়ায় একটি ছোট রাবার ব্যান্ড পরিয়ে দেওয়া হয়, जिससे রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে পাইলসটি শুকিয়ে ঝরে পড়ে।

ইনজেকশন বা স্ক্লেরোথেরাপি (Sclerotherapy):
এই পদ্ধতিতে পাইলসের মধ্যে একটি বিশেষ রাসায়নিক ইনজেকশন দেওয়া হয় যা রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে এবং পাইলস শুকিয়ে যায়। এটি সাধারণত ছোট ও প্রাথমিক পর্যায়ের পাইলসের জন্য ব্যবহৃত হয়।

অত্যাধুনিক অস্ত্রোপচার:
লংগো অপারেশন (Stapled Hemorrhoidopexy): এটি একটি আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে করা হয়, যেখানে বাইরে কোনো কাটাছেঁড়া হয় না। এতে ব্যথা কম হয় এবং রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

টিএইচডি অপারেশন (THD – Transanal Hemorrhoidal Dearterialization): এটি পাইলসের সবচেয়ে আধুনিক চিকিৎসাগুলোর মধ্যে একটি। এই পদ্ধতিতে পাইলসের রক্ত সরবরাহকারী ধমনীগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ঝুলে পড়া অংশকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনা হয়। এতে কোনো কাটাছেঁড়া হয় না এবং ব্যথাও খুব কম থাকে।

প্রচলিত অপারেশন (Hemorrhoidectomy):
যখন পাইলস খুব বড় আকার ধারণ করে (তৃতীয় বা চতুর্থ পর্যায়) বা অন্য চিকিৎসায় কাজ হয় না, তখন এই অপারেশনের মাধ্যমে পাইলস কেটে ফেলা হয়।

মনে রাখবেন, সংকোচ বা ভয় পেয়ে পাইলসের মতো রোগ পুষে রাখা উচিত নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে খুব সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

খাদ্যাভ্যাস ও পথ্য: কী খাবেন এবং কী এড়িয়ে চলবেন?

পাইলস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মূল লক্ষ্য হলো কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করা এবং মলকে নরম রাখা।

কী খাবেন?

  • উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার যোগ করুন। যেমন:
  • শাকসবজি: পালং শাক, ব্রকলি, গাজর, বাঁধাকপি, শসা, টমেটো এবং অন্যান্য সবুজ শাকসবজি।
  • ফলমূল: আপেল, নাশপাতি, কলা, জাম, পেঁপে এবং খোসাসহ অন্যান্য ফল।
  • ডাল ও শস্য: বিভিন্ন ধরনের ডাল, মটরশুঁটি, ছোলা এবং ঢেঁকিছাঁটা চালের মতো গোটা শস্য।
  • ইসবগুলের ভুসি: এটি মলে পানি ধরে রেখে মলকে নরম করতে অত্যন্ত কার্যকর।
  • পর্যাপ্ত তরল: দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। ডাবের পানি, ফলের রস বা স্যুপও খেতে পারেন।

কী এড়িয়ে চলবেন?

কম ফাইবারযুক্ত খাবার: ময়দার তৈরি খাবার যেমন সাদা পাউরুটি, বিস্কুট, কেক ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন।

প্রক্রিয়াজাত ও ফাস্ট ফুড: চিপস, বার্গার, পিৎজা এবং অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাবারে ফাইবার কম এবং লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি বেশি থাকে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ায়।

অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার: এই ধরনের খাবার মলদ্বারে জ্বালাপোড়া এবং অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

দুগ্ধজাত খাবার: কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দুধ, পনির বা চিজ কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে।

লাল মাংস: লাল মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস হজম হতে বেশি সময় নেয় এবং এতে ফাইবার না থাকায় পাইলসের সমস্যা বাড়াতে পারে।

চা ও কফি: অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরকে পানিশূন্য করে তুলতে পারে, যা মলকে শক্ত করে দেয়।

পাইলসের ঘরোয়া যত্ন ও ব্যবস্থাপনা

অস্ত্রোপচার বা অন্যান্য চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি পাইলসের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে:

সিজ বাথ (Sitz Bath): একটি বড় পাত্রে সহনীয় মাত্রার কুসুম গরম পানি নিয়ে তার ওপর ১৫-২০ মিনিট বসে থাকলে ফোলা ও ব্যথা কমে। দিনে ২-৩ বার, বিশেষ করে মলত্যাগের পর এটি করলে আরাম পাওয়া যায়।

কোল্ড কম্প্রেস বা বরফ সেঁক: একটি পরিষ্কার কাপড়ে বরফের টুকরো পেঁচিয়ে ব্যথার জায়গায় ১০-১৫ মিনিট ধরে রাখলে ফোলা ও ব্যথা সাময়িকভাবে কমে যায়।

অ্যালোভেরা জেল: অ্যালোভেরার প্রদাহরোধী গুণ রয়েছে। আক্রান্ত স্থানে খাঁটি অ্যালোভেরা জেল লাগালে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া কমতে পারে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: মলদ্বার সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। মলত্যাগের পর খুব জোরে ঘষাঘষি না করে নরম কাপড় বা ভেজা টিস্যু ব্যবহার করুন।

সবশেষে, মলদ্বারে যেকোনো ধরনের রক্তপাত, ব্যথা বা ফোলা দেখা দিলে সংকোচ না করে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের (কলোরেক্টাল সার্জন) পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় হলে সহজ চিকিৎসাতেই আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।

Translate »
error: Content is protected !!