ওটিসি মেডিসিন তালিকা | ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ঔষধ গ্রহণ
এলোপ্যাথিক ওটিসি মেডিসিন সংক্ষেপে তালিকা, কার্যকারিতা, ব্যবহারবিধি, খাওয়ার নিয়ম
ওভার-দ্য-কাউন্টার (OTC) ঔষধগুলি হল সেইগুলি যা প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কেনা যায়। এগুলি সাধারণত সাধারণ অসুস্থতা বা উপসর্গের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। নিচে কিছু সাধারণ OTC ঔষধ, তাদের কার্যকারিতা, ব্যবহারবিধি এবং খাওয়ার নিয়ম উল্লেখ করা হলো:
১. প্যারাসিটামল (Paracetamol )
- কার্যকারিতা: ব্যথা উপশমকারী (যেমন – মাথা ব্যথা, পেশী ব্যথা, দাঁত ব্যথা) এবং জ্বর কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
- ব্যবহারবিধি: ট্যাবলেট, সিরাপ বা সাপোজিটরি আকারে পাওয়া যায়।
- খাওয়ার নিয়ম: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত ৫০০ মিগ্রা থেকে ১০০০ মিগ্রা প্রতি ৪-৬ ঘণ্টা অন্তর, দিনে সর্বোচ্চ ৪০০০ মিগ্রা (বা আপনার ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী)। শিশুদের জন্য ওজন অনুসারে ডোজ পরিবর্তিত হয়।
২. আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen)
- কার্যকারিতা: ব্যথা উপশমকারী, প্রদাহ বিরোধী (যেমন – আর্থ্রাইটিস, মাসিকের ব্যথা, মোচ) এবং জ্বর কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (NSAID) শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
- ব্যবহারবিধি: ট্যাবলেট, সাসপেনশন আকারে পাওয়া যায়।
- খাওয়ার নিয়ম: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত ২০০ মিগ্রা থেকে ৪০০ মিগ্রা প্রতি ৪-৬ ঘণ্টা অন্তর, দিনে সর্বোচ্চ ১২০০ মিগ্রা (বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী)। এটি খাবারের সাথে বা পরে খাওয়া উচিত যাতে পেটের সমস্যা এড়ানো যায়।
৩. অ্যান্টাসিড (Antacids)
- কার্যকারিতা: বুক জ্বালা, বদহজম এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যাগুলিতে দ্রুত ত্রাণ দেয়। এগুলি পাকস্থলীর অ্যাসিডকে নিরপেক্ষ করে কাজ করে।
- উদাহরণ: অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড, ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইড, ক্যালসিয়াম কার্বনেট।
- ব্যবহারবিধি: চুষে খাওয়ার ট্যাবলেট বা তরল সাসপেনশন আকারে পাওয়া যায়।
- খাওয়ার নিয়ম: সাধারণত প্রয়োজনে খাবার পর বা ঘুমানোর আগে খাওয়া হয়।
৪. অ্যান্টিহিস্টামিন (Antihistamines)
- কার্যকারিতা: অ্যালার্জির লক্ষণ যেমন – হাঁচি, নাক দিয়ে জল পড়া, চুলকানি, চোখ থেকে জল পড়া ইত্যাদির উপশম করে। কিছু অ্যান্টিহিস্টামিন ঘুমের জন্যও ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: সেট্রিজিন (Cetirizine), লোরাটাডিন (Loratadine), ডাইফেনহাইড্রামিন (Diphenhydramine)।
- ব্যবহারবিধি: ট্যাবলেট, ক্যাপসুল বা সিরাপ আকারে পাওয়া যায়।
- খাওয়ার নিয়ম: সাধারণত দিনে একবার (সেট্রিজিন, লোরাটাডিন) অথবা রাতে (ডাইফেনহাইড্রামিন, যা তন্দ্রা সৃষ্টি করতে পারে) গ্রহণ করা হয়।
৫. ডিকনজেস্ট্যান্ট (Decongestants)
- কার্যকারিতা: সর্দি বা অ্যালার্জির কারণে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ব্যবহৃত হয়। এগুলি নাকের রক্তনালীগুলি সংকুচিত করে এবং শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ করে।
- উদাহরণ: সিউডোএফিড্রিন (Pseudoephedrine), ফেনাইলফ্রিন (Phenylephrine)।
- ব্যবহারবিধি: ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সিরাপ বা নাকের স্প্রে আকারে পাওয়া যায়।
- খাওয়ার নিয়ম: সাধারণত প্রতি ৪-৬ ঘণ্টা অন্তর গ্রহণ করা হয়। নাকের স্প্রে দিনে ২-৩ বারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয় এবং একটানা ৫-৭ দিনের বেশি ব্যবহার করলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
৬. কাশি উপশমকারী (Cough Suppressants) ও কফ এক্সপেক্টোরেন্ট (Expectorants)
কার্যকারিতা:
- কাশি উপশমকারী (Suppressants): শুষ্ক কাশি কমাতে সাহায্য করে। (যেমন – ডেক্সট্রোমেথরফান – Dextromethorphan)
- কফ এক্সপেক্টোরেন্ট (Expectorants): বুকে জমে থাকা কফ পাতলা করে বের করে দিতে সাহায্য করে। (যেমন – গুয়াইফেনেসিন – Guaifenesin)
- ব্যবহারবিধি: সিরাপ বা ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়।
- খাওয়ার নিয়ম: সাধারণত নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতি ৪-৬ ঘণ্টা অন্তর গ্রহণ করা হয়।
৭. ডায়রিয়া বিরোধী ঔষধ (Anti-diarrhoeals)
- কার্যকারিতা: ডায়রিয়ার প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে।
- উদাহরণ: লোপেরামাইড (Loperamide)।
- ব্যবহারবিধি: ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল আকারে পাওয়া যায়।
- খাওয়ার নিয়ম: প্রাথমিকভাবে দুটি ট্যাবলেট এবং এরপর প্রতিটি তরল মলত্যাগের পর একটি ট্যাবলেট, দিনে সর্বোচ্চ ৮টি ট্যাবলেট (বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী)।
৮. ল্যাক্সেটিভ (Laxatives)
- কার্যকারিতা: কোষ্ঠকাঠিন্য উপশমে ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: বিসাকোডিল (Bisacodyl), ল্যাক্টুলোজ (Lactulose)।
- ব্যবহারবিধি: ট্যাবলেট, সিরাপ বা সাপোজিটরি আকারে পাওয়া যায়।
- খাওয়ার নিয়ম: রাতে ঘুমানোর আগে বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা হয়।
৯. বিসমথ সাবস্যালিসাইলেট (Bismuth Subsalicylate)
- কার্যকারিতা: এটি ডায়রিয়া, বদহজম, বুক জ্বালা এবং বমি বমি ভাব উপশম করতে সাহায্য করে। এটি পেটের অস্বস্তি কমাতেও কার্যকর।
- ব্যবহারবিধি: তরল সাসপেনশন (যেমন: Pepto-Bismol) বা চুষে খাওয়ার ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়।
- খাওয়ার নিয়ম: সাধারণত নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতি ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা অন্তর প্রয়োজন অনুসারে গ্রহণ করা হয়। তবে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ডোজ অতিক্রম করা উচিত নয়।
১০. হাইড্রোজেন পারক্সাইড (Hydrogen Peroxide)
- কার্যকারিতা: ছোটখাটো কাটাছেঁড়া, আঁচড় বা ঘষা লাগার পর ক্ষতস্থান পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি অ্যান্টিসেপটিক।
- ব্যবহারবিধি: তরল দ্রবণ আকারে পাওয়া যায়, সাধারণত ৩% ঘনত্বে।
- ব্যবহারের নিয়ম: ক্ষতস্থানে সরাসরি প্রয়োগ করা হয় বা তুলার প্যাডে নিয়ে হালকাভাবে পরিষ্কার করা হয়। চোখ বা মুখ গহ্বরের গভীরে ব্যবহার করা উচিত নয়।
১১. টপিক্যাল অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম (Topical Antifungal Creams)
- কার্যকারিতা: দাদ (ringworm), জক ইচ (jock itch), অ্যাথলেটস ফুট (athlete’s foot) এবং ইস্ট ইনফেকশনের (yeast infection) মতো ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: ক্লোট্রিমাজল (Clotrimazole), মাইকোনাজল (Miconazole), টারবিনাফিন (Terbinafine)।
- ব্যবহারবিধি: ক্রিম, লোশন, পাউডার বা স্প্রে আকারে পাওয়া যায়।
- ব্যবহারের নিয়ম: আক্রান্ত স্থানে দিনে ১-২ বার পরিষ্কার ত্বকে প্রয়োগ করতে হয়। সংক্রমণ পুরোপুরি সেরে না যাওয়া পর্যন্ত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যবহার চালিয়ে যেতে হয়।
১২. টপিক্যাল অ্যান্টিবায়োটিক মলম (Topical Antibiotic Ointments)
- কার্যকারিতা: ছোটখাটো কাটা, আঁচড় বা পোড়ার কারণে ত্বকের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
- উদাহরণ: নিওমাইসিন (Neomycin), পলিমাইক্সিন বি (Polymyxin B), ব্যাসিট্রাসিন (Bacitracin)। প্রায়শই এই তিনটি অ্যান্টিবায়োটিক একত্রে একটি ট্রিপল অ্যান্টিবায়োটিক মলম হিসেবে পাওয়া যায়।
- ব্যবহারবিধি: মলম বা ক্রিম আকারে পাওয়া যায়।
- ব্যবহারের নিয়ম: পরিষ্কার করা ক্ষতস্থানে দিনে ১-৩ বার পাতলা করে প্রয়োগ করা হয়।
১৩. হাইড্রোকর্টিসোন ক্রিম (Hydrocortisone Cream)
- কার্যকারিতা: চুলকানি, লালচে ভাব, ফুসকুড়ি এবং ত্বকের প্রদাহ (যেমন – অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া, পোকামাকড় কামড়, একজিমা, সোরিয়াসিস) কমাতে সাহায্য করে। এটি একটি মৃদু কর্টিকোস্টেরয়েড।
- ব্যবহারবিধি: ০.৫% বা ১% ঘনত্বে ক্রিম বা মলম আকারে পাওয়া যায়।
- ব্যবহারের নিয়ম: আক্রান্ত স্থানে দিনে ১-২ বার পাতলা করে প্রয়োগ করা হয়। মুখ বা চোখের চারপাশে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা উচিত নয়।
১৪. ল্যাক্রিমাল রিপ্লেসমেন্ট ড্রপস (কৃত্রিম অশ্রু) (Artificial Tears/Lubricating Eye Drops)
- কার্যকারিতা: শুষ্ক চোখ, চোখের জ্বালাপোড়া বা চোখ ক্লান্ত লাগার মতো সমস্যায় চোখকে আর্দ্রতা যোগাতে ও আরাম দিতে ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: কার্বোক্সিমিথাইলসেলুলোজ (Carboxymethylcellulose), হায়ালুরোনিক অ্যাসিড (Hyaluronic Acid)।
- ব্যবহারবিধি: চোখের ড্রপ বা জেল আকারে পাওয়া যায়।
- ব্যবহারের নিয়ম: প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে কয়েকবার ১-২ ফোঁটা করে চোখে প্রয়োগ করা হয়।
১৫. ইয়ারওয়াক্স রিমুভাল ড্রপস (Earwax Removal Drops)
- কার্যকারিতা: কানে জমে থাকা খড় বা ময়লা (earwax) নরম করে বের করে দিতে সাহায্য করে, যা কানের ব্লক বা অস্বস্তি দূর করে।
- উদাহরণ: কার্বামাইড পারক্সাইড (Carbamide Peroxide), মিনারেল অয়েল (Mineral oil)।
- ব্যবহারবিধি: কানের ড্রপ আকারে পাওয়া যায়।
- ব্যবহারের নিয়ম: সাধারণত নির্দেশিকা অনুযায়ী কয়েক ফোঁটা ড্রপ কানে দিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করা হয়, তারপর কটন বাড দিয়ে আলতো করে পরিষ্কার করা হয়। একটানা কয়েকদিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
১৬. টপিক্যাল পেইন রিলিফ ক্রিম/জেল (Topical Pain Relief Creams/Gels)
- কার্যকারিতা: পেশী ব্যথা, জয়েন্টের ব্যথা, মোচ বা টান লাগার কারণে সৃষ্ট ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে। এগুলিতে সাধারণত স্যালিসাইলেট, মেন্থল, ক্যাপসাইসিন বা NSAID (যেমন – ডাইক্লোফেনাক) থাকে।
- উদাহরণ: ডাইক্লোফেনাক জেল, ভলিনি জেল, মুভ ক্রিম।
- ব্যবহারবিধি: ক্রিম, জেল বা স্প্রে আকারে পাওয়া যায়।
- ব্যবহারের নিয়ম: আক্রান্ত স্থানে দিনে ২-৩ বার আলতোভাবে মালিশ করে প্রয়োগ করতে হয়। চোখ বা ক্ষতস্থানে ব্যবহার করা উচিত নয়। ব্যবহারের পর হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
১৭. অ্যান্টিসেপটিক সলিউশন/ওয়াইপস (Antiseptic Solutions/Wipes)
- কার্যকারিতা: ছোটখাটো কাটা, আঁচড় বা ক্ষত পরিষ্কার করতে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: স্যাভলন (Savlon), ডেটল (Dettol), আয়োডিন সলিউশন (Povidone-Iodine)।
- ব্যবহারবিধি: তরল দ্রবণ বা ওয়াইপস আকারে পাওয়া যায়।
- ব্যবহারের নিয়ম: ক্ষতস্থান পরিষ্কার করার জন্য সরাসরি প্রয়োগ করা হয় বা তুলার প্যাডে নিয়ে মুছে ফেলা হয়। বড় বা গভীর ক্ষতের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
১৮. সানস্ক্রিন (Sunscreen)
- কার্যকারিতা: সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি (UV) রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে, যা সানবার্ন, ত্বকের বার্ধক্য এবং ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
- ব্যবহারবিধি: ক্রিম, লোশন, জেল, স্প্রে বা স্টিক আকারে পাওয়া যায়। SPF (Sun Protection Factor) ১৫ বা তার বেশি SPF থাকা সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
- ব্যবহারের নিয়ম: বাইরে বের হওয়ার অন্তত ১৫-৩০ মিনিট আগে উন্মুক্ত ত্বকে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োগ করুন এবং প্রতি ২ ঘণ্টা অন্তর বা সাঁতার কাটার পর পুনরায় প্রয়োগ করুন।
১৯. মশা তাড়ানোর স্প্রে/লোশন (Insect Repellents)
- কার্যকারিতা: মশা, মাছি এবং অন্যান্য পোকামাকড় কামড়ানো থেকে রক্ষা করে। এটি ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।
- উদাহরণ: DEET (ডায়েথাইলটোলুয়ামাইড), আইকারিডিন (Icaridin) বা লেবু ইউক্যালিপটাস তেল (Oil of Lemon Eucalyptus) সমৃদ্ধ পণ্য।
- ব্যবহারবিধি: স্প্রে, লোশন, ক্রিম বা ওয়াইপস আকারে পাওয়া যায়।
- ব্যবহারের নিয়ম: উন্মুক্ত ত্বকে এবং পোশাকের উপরে প্রয়োগ করুন। শিশুদের ক্ষেত্রে সরাসরি তাদের হাতে বা মুখে ব্যবহার করা উচিত নয়।
২০. অরাল রিহাইড্রেশন সল্ট (ORS) / খাবার স্যালাইন
- কার্যকারিতা: ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত বমির কারণে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জল ও লবণের ঘাটতি পূরণ করে পানিশূন্যতা রোধ করে।
- ব্যবহারবিধি: পাউডার আকারে পাওয়া যায় যা নির্দিষ্ট পরিমাণ ফুটানো ও ঠান্ডা করা জলে মিশিয়ে তৈরি করতে হয়।
- খাওয়ার নিয়ম: ডায়রিয়া বা বমি হলে প্রতিবার পাতলা মলত্যাগের পর অথবা বমির পর ছোট ছোট চুমুকে পান করুন। শিশুদের ক্ষেত্রেও ওজন ও বয়স অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণে পান করাতে হয়।
২১. গলা ব্যথার স্প্রে/লজেন্স (Sore Throat Sprays/Lozenges)
- কার্যকারিতা: গলা ব্যথা, গলা খুশখুশ এবং গলার অস্বস্তি উপশম করে। এগুলিতে সাধারণত বেনজোকেন (Benzocaine) বা হেক্সাইলরেসরসিনল (Hexylresorcinol) এর মতো অ্যানেসথেটিক থাকে, অথবা মেন্থল (Menthol) ও ইউক্যালিপটাস (Eucalyptus) থাকে যা শীতল প্রভাব দেয়।
- উদাহরণ: Strepsils, Fisherman’s Friend।
- ব্যবহারবিধি: স্প্রে বা চুষে খাওয়ার লজেন্স আকারে পাওয়া যায়।
- খাওয়ার নিয়ম: নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতি কয়েক ঘণ্টা অন্তর একটি লজেন্স চুষে খান অথবা স্প্রে ব্যবহার করুন। শিশুদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
২২. গ্যাস্ট্রো-প্রোটেক্টিভ ঔষধ (Proton Pump Inhibitors – PPIs) – কম ডোজ
- কার্যকারিতা: কিছু কম ডোজের PPI (যেমন – ওমেপ্রাজল 20 মিগ্রা) প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যায় এবং ঘন ঘন বুক জ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এগুলি পাকস্থলীর অ্যাসিড উৎপাদন কমিয়ে কাজ করে।
- উদাহরণ: ওমেপ্রাজল (Omeprazole) 20 মিগ্রা।
- ব্যবহারবিধি: ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল আকারে পাওয়া যায়।
- খাওয়ার নিয়ম: সাধারণত প্রতিদিন সকালে খাবারের আগে গ্রহণ করা হয়। একটানা ১৪ দিনের বেশি ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:
- শিশুদের এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য: শিশুদের জন্য OTC ঔষধ ব্যবহারের আগে সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মহিলাদের জন্যও এটি প্রযোজ্য।
- ডোজের সঠিকতা: নির্দিষ্ট বয়স এবং ওজন অনুসারে সঠিক ডোজ ব্যবহার করা আবশ্যক।
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: যেকোনো OTC ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- অন্যান্য ঔষধের সাথে মিথস্ক্রিয়া: আপনি যদি অন্য কোনো প্রেসক্রিপশন বা OTC ঔষধ গ্রহণ করেন, তবে নতুন কোনো OTC ঔষধ শুরু করার আগে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
- অবস্থা খারাপ হলে: যদি আপনার অবস্থা উন্নত না হয় বা খারাপ হয়ে যায়, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ: মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ ব্যবহার করবেন না।
- সঠিক সংরক্ষণ: ঔষধগুলিকে সরাসরি সূর্যালোক এবং আর্দ্রতা থেকে দূরে, শিশুদের নাগালের বাইরে সংরক্ষণ করুন।