Sale!

Mediitem 19

Original price was: 1,400.00৳ .Current price is: 1,250.00৳ .

Mediitem 19 ( আমাশয় ) ওজন 100 গ্রাম পাউডার, ওজন 200 এম এল টিংচার (লিকুইড)

Description

Mediitem19 ( আমাশয় )

আমাশয় (Amoebiasis) একটি সংক্রামক রোগ যা মূলত পরিপাকতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। এটি এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা (Entamoeba histolytica) নামক এক প্রকার এককোষী পরজীবী জীবাণুর সংক্রমণের ফলে হয়ে থাকে। এই জীবাণু সাধারণত দূষিত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে।

আমাশয় কী?

আমাশয় হলো এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা নামক পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট অন্ত্রের একটি সংক্রমণ। এই পরজীবী বৃহদন্ত্রের দেয়ালে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে রক্ত ও শ্লেষ্মা মিশ্রিত মল, পেটে ব্যথা এবং অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়। কিছু ক্ষেত্রে, এই পরজীবী রক্ত ​​প্রবাহের মাধ্যমে লিভার, ফুসফুস বা মস্তিষ্কের মতো অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং সেখানেও সংক্রমণ ঘটাতে পারে (একে বলা হয় এক্সট্রা-ইনটেস্টিনাল অ্যামিবায়াসিস)।

আমাশয় এর কারণ:

জীবাণু: এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা নামক পরজীবী। এই পরজীবী দুটি রূপে থাকতে পারে: সিস্ট (cyst) এবং ট্রফোজয়েট (trophozoite)। সিস্ট হলো জীবাণুর निष्क्रिय ও সংক্রমণকারী রূপ, যা প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। ট্রফোজয়েট হলো জীবাণুর সক্রিয় রূপ, যা অন্ত্রে ক্ষত সৃষ্টি করে।
সংক্রমণের মাধ্যম:
দূষিত খাদ্য ও পানি: পরজীবীর সিস্ট দ্বারা দূষিত খাবার বা পানি পান করলে।
ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে: সংক্রমিত ব্যক্তির মলের সংস্পর্শে এলে (যেমন – অপরিষ্কার হাতে খাবার তৈরি বা পরিবেশন করলে)।
মাছি: মাছি সংক্রমিত মল থেকে জীবাণু বহন করে খাদ্যে বসলে।

আমাশয় এর প্রকারভেদ

অ্যাসিম্পটোম্যাটিক (লক্ষণবিহীন) আমাশয়: প্রায় ৯০% ক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যক্তির কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এরা জীবাণুর বাহক হিসেবে কাজ করে এবং অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়াতে পারে।
ইনটেস্টিনাল (অন্ত্রীয়) আমাশয়:
অ্যাকিউট অ্যামিবিক ডিসেন্ট্রি (Acute Amoebic Dysentery): তীব্র উপসর্গ দেখা দেয়, যেমন – ঘন ঘন পাতলা পায়খানা, মলের সাথে রক্ত ও শ্লেষ্মা যাওয়া, পেটে তীব্র ব্যথা ও মোচড়ানো, জ্বর ইত্যাদি।
ক্রনিক অ্যামিবিক কোলাইটিস (Chronic Amoebic Colitis): দীর্ঘদিন ধরে হালকা থেকে মাঝারি উপসর্গ থাকে, যেমন – মাঝে মাঝে পাতলা পায়খানা, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে অস্বস্তি, গ্যাস ইত্যাদি।
এক্সট্রা-ইনটেস্টিনাল (অন্ত্রের বাইরে) আমাশয়:
অ্যামিবিক লিভার অ্যাবসেস (Amoebic Liver Abscess): এটি সবচেয়ে সাধারণ এক্সট্রা-ইনটেস্টিনাল রূপ। এতে লিভারে পুঁজ জমা হয়। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাঁপুনি, পেটের ডান দিকের উপরের অংশে ব্যথা, লিভার ফুলে যাওয়া, ওজন হ্রাস ইত্যাদি।
অন্যান্য অঙ্গ (যেমন ফুসফুস, মস্তিষ্ক, ত্বক) খুব কম ক্ষেত্রে আক্রান্ত হতে পারে।

আমাশয় এর লক্ষণসমূহ

সংক্রমণের তীব্রতা এবং ধরনের ওপর নির্ভর করে লক্ষণগুলো ভিন্ন হতে পারে:
হালকা থেকে মাঝারি উপসর্গ:
পেটে হালকা ব্যথা বা মোচড়ানো।
ডায়রিয়া (দিনে কয়েকবার পাতলা পায়খানা)।
মলের সাথে শ্লেষ্মা (আম) যাওয়া।
অতিরিক্ত গ্যাস।
ক্লান্তি।
তীব্র উপসর্গ (অ্যামিবিক ডিসেন্ট্রি):
তীব্র পেটে ব্যথা ও মোচড়ানো (টেনেসমাস – মলত্যাগের পরেও অসম্পূর্ণতার অনুভূতি)।
ঘন ঘন রক্ত ও শ্লেষ্মা মিশ্রিত পাতলা পায়খানা (দিনে ১০-২০ বার বা তার বেশি)।
জ্বর ও কাঁপুনি।
বমি বমি ভাব বা বমি।
ওজন হ্রাস।
শারীরিক দুর্বলতা।
পানিশূন্যতা।

আমাশয় এর রোগ নির্ণয়:

মল পরীক্ষা (Stool test): অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে মলের নমুনা পরীক্ষা করে এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকার সিস্ট বা ট্রফোজয়েট শনাক্ত করা হয়। অনেক সময় একাধিকবার মল পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
অ্যান্টিজেন টেস্ট (Antigen detection test): মলে এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকার অ্যান্টিজেন শনাক্ত করা হয়।
সেরোলজি (Serology): রক্তে এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকার বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি শনাক্ত করা হয়, বিশেষ করে এক্সট্রা-ইনটেস্টিনাল আমাশয়ের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর।
ইমেজিং: লিভার অ্যাবসেসের ক্ষেত্রে আলট্রাসনোগ্রাম (USG) বা সিটি স্ক্যান (CT scan) করা হয়।
কোলনোস্কোপি/সিগমায়েডোস্কোপি: অন্ত্রের ভেতরের অবস্থা দেখতে এবং প্রয়োজনে বায়োপসি নিতে এই পরীক্ষা করা হতে পারে।

আমাশয় জটিলতা:

সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে আমাশয় থেকে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে:
পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা।
অন্ত্রে ছিদ্র (Perforation) হয়ে পেরিটোনাইটিস (Peritonitis) হতে পারে।
টক্সিক মেগাকোলন (Toxic megacolon) – বৃহদন্ত্রের মারাত্মক প্রসারণ।
অন্ত্রে রক্তক্ষরণ।
অ্যামিবিক লিভার অ্যাবসেস এবং এর জটিলতা (যেমন – অ্যাবসেস ফেটে যাওয়া)।
ফুসফুস বা মস্তিষ্কে অ্যাবসেস (খুব বিরল)।

আমাশয় প্রতিরোধ

আমাশয় প্রতিরোধের জন্য ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি এবং পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
বিশুদ্ধ পানি পান: ফোটানো, ফিল্টার করা বা ক্লোরিন ট্যাবলেট দিয়ে শোধিত পানি পান করুন।
সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহার করুন এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটান।
হাত ধোয়া: খাবার তৈরি ও পরিবেশনের আগে, খাওয়ার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন।

আমাশয় খাদ্য সুরক্ষা:

ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
খাবার ভালোভাবে রান্না করে খান।
বাইরের খোলা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলুন।
খাবার ঢেকে রাখুন যাতে মাছি বসতে না পারে।
ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি: নখ ছোট রাখুন।
আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা: আমাশয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করুন।

আমাশয় কখন হাসপাতালে দেখাবেন?

ডায়রিয়ার সাথে রক্ত বা শ্লেষ্মা গেলে।
তীব্র পেটে ব্যথা হলে।
উচ্চমাত্রার জ্বর থাকলে।
পানিশূন্যতার লক্ষণ (যেমন – মুখ শুকিয়ে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া, দুর্বলতা) দেখা দিলে।
কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া না কমলে।
আমাশয় একটি প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসাযোগ্য রোগ। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই রোগ থেকে অনেকাংশে সুরক্ষিত থাকা যায়।

==============

আমাদের চিকিৎসা প্যাকেজে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়

Mediitem 19 ( আমাশয় ) ওজন 100 গ্রাম পাউডার, ওজন 200 এম এল টিংচার (লিকুইড)

🛑 অর্ডার করার জন্য
নাম:-
জেলা:-
থানা:-
গ্রাম/এলাকা:-
ফোন নাম্বার:-
🚛আমরা পৌঁছে দিব ইনশাল্লাহ।
👉 https://www.mediitem.com
কল অথবা হোয়াটসঅ্যাপ 01845-166188
👉 সরাসরি সাক্ষাৎ করতে চাইলে চলে আসুন বিকাল 3 টা থেকে রাত 9 টা পর্যন্ত বাসস্ট্যান্ড, কাউখালী, পিরোজপুর।