Restless Legs Syndrome (RLS): পা কামড়ায়, চাবায়, টান ধরা, জ্বালাপোড়া

রেস্টলেস লেগস সিন্ড্রোম (RLS) হলো একটি স্নায়বিক অবস্থা যা পা নড়াচড়ার জন্য একটি অনিয়ন্ত্রিত ইচ্ছা তৈরি করে। এটি সাধারণত বিশ্রাম বা অলসতার সময় ঘটে থাকে, যেমন বিছানায় শুয়ে থাকা বা বসে থাকা। RLS এর লক্ষণগুলি সাধারণত সন্ধ্যায় বা রাতে বেশি তীব্র হয় এবং নড়াচড়ার মাধ্যমে সাময়িকভাবে উপশম হয়।

রোগ নির্ণয় (Diagnosis):

RLS নির্ণয়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষাগার পরীক্ষা নেই। ডাক্তার রোগীর লক্ষণ, চিকিৎসা ইতিহাস এবং একটি শারীরিক পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে রোগ নির্ণয় করেন।

সাধারণত যারা RLS এ আক্রান্ত হন:

বয়স: RLS যেকোনো বয়সে হতে পারে, এমনকি শিশুদেরও। তবে সাধারণত মধ্যবয়সী বা বয়স্কদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায় এবং বয়সের সাথে এর তীব্রতা বাড়তে পারে।

লিঙ্গ: মহিলাদের মধ্যে RLS হওয়ার প্রবণতা পুরুষদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

পরিবারের ইতিহাস: প্রায় ৫০% ক্ষেত্রে, RLS আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিবারের অন্য সদস্যদেরও এই রোগ থাকে।

লক্ষণ:

পায়ে অস্বস্তি বা অদ্ভুত সংবেদন, যেমন – টান ধরা, শিরশির করা, চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা ব্যথার মতো অনুভূতি।

পা নড়াচড়ার তীব্র, অনিয়ন্ত্রিত ইচ্ছা, যা এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি দেয়।

লক্ষণগুলি বিশ্রাম বা অলসতার সময় শুরু হয় বা খারাপ হয়।

লক্ষণগুলি নড়াচড়ার মাধ্যমে, যেমন হাঁটা বা পা stretching এর মাধ্যমে আংশিকভাবে বা সম্পূর্ণরূপে উপশম হয়।

সন্ধ্যায় বা রাতে লক্ষণগুলি আরও খারাপ হয়।

কারণ:

RLS এর সঠিক কারণ প্রায়শই অজানা থাকে (প্রাথমিক RLS)। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি নিম্নলিখিত কারণগুলির সাথে যুক্ত হতে পারে:

জেনেটিক্স: RLS প্রায়শই পরিবারে দেখা যায়।

আয়রনের অভাব: শরীরে আয়রনের ঘাটতি, বিশেষ করে মস্তিষ্কে, RLS এর একটি সাধারণ কারণ।

ডোপামিন ভারসাম্যহীনতা: মস্তিষ্কের ডোপামিন নামক রাসায়নিকের ভারসাম্যহীনতা RLS সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। ডোপামিন পেশী নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে।

অন্যান্য চিকিৎসা শর্ত: কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস, পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি, পারকিনসন্স রোগ, এবং গর্ভাবস্থা (বিশেষ করে শেষ ট্রাইমেস্টারে) RLS এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ওষুধ: কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ, যেমন অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস, অ্যান্টি-নসিয়া ড্রাগ এবং কিছু অ্যান্টিসাইকোটিকস RLS এর লক্ষণগুলিকে খারাপ করতে পারে।

গর্ভাবস্থায় RLS (RLS in Pregnancy):

গর্ভাবস্থায় RLS খুব সাধারণ, প্রায় ২০% গর্ভবতী মহিলা এতে আক্রান্ত হন। এর কারণ হতে পারে:

শরীরে আয়রনের অভাব (গর্ভাবস্থায় আয়রনের চাহিদা বাড়ে)।

হরমোনের পরিবর্তন (যেমন ইস্ট্রোজেন)।

ফোলেট (ফলিক অ্যাসিড) এর অভাব।

পিঠে ব্যথা বা চাপ।

গর্ভাবস্থায় RLS সাধারণত প্রসবের পর সেরে যায়। চিকিৎসার মধ্যে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, আয়রন সাপ্লিমেন্ট এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ওষুধ সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়।

চিকিৎসা:

RLS এর চিকিৎসা লক্ষণগুলির তীব্রতা এবং অন্তর্নিহিত কারণের উপর নির্ভর করে।

জীবনযাত্রার পরিবর্তন:

নিয়মিত ব্যায়াম (তবে ঘুমানোর আগে নয়)।

ক্যাফেইন, অ্যালকোহল এবং তামাক পরিহার করা।

ঘুমানোর রুটিন উন্নত করা।

গরম জল দিয়ে গোসল বা ম্যাসাজ।

আয়রন সাপ্লিমেন্ট (যদি আয়রনের অভাব থাকে)।

ওষুধ:

ডোপামিন অ্যাগোনিস্ট: যেমন প্রামিপেক্সোল (Pramipexole), রোপিনিরোল (Ropinirole) এবং রটিগোটিন (Rotigotine)। এগুলি মস্তিষ্কের ডোপামিনের মাত্রা বাড়িয়ে কাজ করে।

আলফা-২ ডেল্টা লিগ্যান্ডস: যেমন গ্যালাপেন্টিন (Gabapentin) বা প্রেগাবালিন (Pregabalin)। এগুলি স্নায়ু ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে।

ওপিওডস: গুরুতর RLS এর জন্য মাঝে মাঝে ব্যবহার করা হয়।

বেনজোডিয়াজেপাইনস: যেমন ক্লোনাজেপাম (Clonazepam), যা ঘুমের উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে, তবে এটি RLS এর মূল লক্ষণগুলির চিকিৎসা করে না।

Translate »
error: Content is protected !!