Description
Mediitem 27 নিম্ন রক্তচাপ (Low blood pressure )
মূল্য ১২৫০ টাকা
ওজন 150 গ্রাম পাউডার
ওজন 100 এম এল টিংচার (লিকুইড)
========
🛑 অর্ডার করার জন্য
নাম:-
জেলা:-
থানা:-
গ্রাম/এলাকা:-
ফোন নাম্বার:-
এগুলো দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
🚛আমরা পৌঁছে দিব ইনশাল্লাহ।
কল 01845-166188
নিম্ন রক্তচাপ কি
নিম্ন রক্তচাপ বা হাইপোটেনশন (Hypotension) একটি শারীরিক অবস্থা যেখানে রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে। সাধারণত, সিস্টোলিক চাপ (উপরের সংখ্যা) ৯০ মিলিমিটার পারদ (mmHg) এর নিচে এবং ডায়াস্টোলিক চাপ (নিচের সংখ্যা) ৬০ mmHg এর নিচে থাকলে তাকে নিম্ন রক্তচাপ হিসেবে ধরা হয়।
তবে, অনেক সুস্থ ব্যক্তির রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবেই কম থাকতে পারে এবং তাদের কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে এটি উদ্বেগের কারণ নয়। সমস্যা তখনই হয় যখন রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায় বা এতটাই কম থাকে যে মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিতে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ করতে পারে না, যার ফলে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়।
নিম্ন রক্তচাপের কারণ (Causes of Low Blood Pressure):
নিম্ন রক্তচাপের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যেমন:
১. শরীরে জলের অভাব (Dehydration): বমি, ডায়রিয়া, অতিরিক্ত ঘাম, বা পর্যাপ্ত জল পান না করলে শরীরে জলের অভাব দেখা দেয়, যা রক্তচাপ কমাতে পারে।
২. গর্ভাবস্থা (Pregnancy): গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসে, যার ফলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। সাধারণত প্রসবের পর এটি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
৩. হৃদরোগ (Heart problems): কিছু হৃদরোগ যেমন ব্র্যাডিকার্ডিয়া (খুব ধীর হৃদস্পন্দন), হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিওর, বা হার্টের ভালভের সমস্যা রক্তচাপ কমাতে পারে।
৪. এন্ডোক্রাইন সমস্যা (Endocrine problems): থাইরয়েডের সমস্যা (হাইপোথাইরয়েডিজম), অ্যাডিসন ডিজিজ (অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির কাজ), হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করার অভাব) এবং কিছু ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রক্তচাপ কমাতে পারে।
৫. রক্তক্ষরণ (Blood loss): গুরুতর আঘাত বা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে শরীর থেকে বেশি রক্ত বেরিয়ে গেলে রক্তচাপ কমে যায়।
৬. গুরুতর সংক্রমণ (Severe infection/Septicemia): যখন সংক্রমণ রক্ত প্রবাহে প্রবেশ করে (সেপটিসেমিয়া), তখন এটি সেপটিক শক নামক একটি জীবন-হুমকির কারণ হতে পারে, যার ফলে রক্তচাপ মারাত্মকভাবে কমে যায়।
৭. গুরুতর অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া (Anaphylaxis): অ্যানাফাইল্যাক্সিস একটি গুরুতর অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া যা শ্বাসকষ্ট, আমবাত, চুলকানি, গলা ফুলে যাওয়া এবং রক্তচাপের আকস্মিক পতন ঘটাতে পারে।
৮. পুষ্টির অভাব (Nutritional deficiencies): ভিটামিন বি-১২ এবং ফোলেটের অভাব অ্যানিমিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যা নিম্ন রক্তচাপের কারণ হতে পারে।
9. অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন (Orthostatic hypotension) বা পোস্টুরাল হাইপোটেনশন: বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে যাওয়া। এটি বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
১0. নিউরালি মিডিয়েটেড হাইপোটেনশন (Neurally mediated hypotension): দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর রক্তচাপ কমে যাওয়া। এটি সাধারণত অল্পবয়সী এবং শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
নিম্ন রক্তচাপের উপসর্গ (Symptoms of Low Blood Pressure):
নিম্ন রক্তচাপের কারণে নিম্নলিখিত উপসর্গগুলি দেখা দিতে পারে:
মাথা ঘোরা বা হালকা লাগা (Dizziness or lightheadedness)
জ্ঞান হারানো (Fainting/Syncope)
ঝাপসা দৃষ্টি (Blurred vision)
বমি বমি ভাব (Nausea)
ক্লান্তি বা দুর্বলতা (Fatigue or weakness)
মনোযোগের অভাব (Lack of concentration)
ঠান্ডা, ফ্যাকাশে এবং চটচটে ত্বক (Cold, clammy, pale skin)
দ্রুত এবং অগভীর শ্বাস (Rapid, shallow breathing)
তৃষ্ণা (Thirst)
বিষণ্ণতা (Depression) – কিছু ক্ষেত্রে
রোগ নির্ণয় (Diagnosis):
রক্তচাপ মাপার যন্ত্র (স্ফিগমোম্যানোমিটার) দিয়ে রক্তচাপ পরিমাপ করে নিম্ন রক্তচাপ নির্ণয় করা হয়। কারণ নির্ণয়ের জন্য ডাক্তার কিছু অতিরিক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন:
রক্ত পরীক্ষা: রক্তে শর্করার মাত্রা, রক্তের সম্পূর্ণ গণনা (CBC) (অ্যানিমিয়া বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখতে), কিডনি এবং থাইরয়েড ফাংশন পরীক্ষা।
ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ECG or EKG): হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা বা হৃদরোগের লক্ষণ সনাক্ত করতে।
ইকোকার্ডিওগ্রাম (Echocardiogram): আল্ট্রাসাউন্ড ব্যবহার করে হার্টের গঠন এবং কার্যকারিতা পরীক্ষা করা।
স্ট্রেস টেস্ট: শারীরিক পরিশ্রমের সময় হার্ট কীভাবে কাজ করে তা দেখা।
টিল্ট টেবিল টেস্ট (Tilt-table test): শরীরের অবস্থান পরিবর্তনের সাথে রক্তচাপের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়, বিশেষত অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশনের ক্ষেত্রে।
চিকিৎসা (Treatment):
নিম্ন রক্তচাপের চিকিৎসা তার কারণের উপর নির্ভর করে।
১. জীবনযাত্রার পরিবর্তন:
* বেশি জল পান করা: ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করতে পর্যাপ্ত জল এবং তরল পান করুন।
* লবণ গ্রহণ বৃদ্ধি: ডাক্তার যদি পরামর্শ দেন, তবে খাবারে লবণের পরিমাণ সামান্য বাড়াতে পারেন। তবে অতিরিক্ত লবণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এটি করবেন না।
* অ্যালকোহল পরিহার: অ্যালকোহল ডিহাইড্রেশন ঘটায় এবং রক্তচাপ কমায়।
* ধীরে ধীরে অবস্থান পরিবর্তন: বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে উঠুন।
* ছোট এবং ঘন ঘন খাবার: ভারী খাবারের পরিবর্তে অল্প পরিমাণে ঘন ঘন খাবার খান। কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার কম খান, কারণ এটি রক্তচাপ কমাতে পারে (পোস্টপ্রান্ডিয়াল হাইপোটেনশন)।
* কম্প্রেশন স্টকিংস: এই মোজাগুলি পায়ে রক্ত জমা হওয়া কমাতে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে।
* নিয়মিত ব্যায়াম: হালকা থেকে মাঝারি ব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
২. ঔষধ:
* যদি কোনো ঔষধের কারণে রক্তচাপ কমে যায়, তবে ডাক্তার সেই ঔষধ পরিবর্তন বা তার ডোজ সমন্বয় করতে পারেন।
* কিছু ক্ষেত্রে, রক্তচাপ বাড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট ঔষধ (যেমন ফ্লুড্রোকর্টিসন বা মিডোডরিন) দেওয়া হতে পারে, তবে এটি শুধুমাত্র ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে গ্রহণ করা উচিত।
৩. অন্তর্নিহিত রোগের চিকিৎসা:
* যদি নিম্ন রক্তচাপ কোনো নির্দিষ্ট রোগের (যেমন হৃদরোগ, থাইরয়েড সমস্যা) কারণে হয়, তবে সেই রোগের চিকিৎসা করা প্রয়োজন।
