Description
Mediitem 17 ( নখ কুনির মহা ওষুধ )
নখকুনি বা প্যারোনাইকিয়া (Paronychia)
নখকুনি বা প্যারোনাইকিয়া (Paronychia) হলো নখের চারপাশের ত্বকের একটি ইনফেকশন বা প্রদাহ। এটি আঙুল বা পায়ের নখ, যেকোনো স্থানেই হতে পারে। এটি বেশ যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে এবং ক্ষেত্রবিশেষে গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।
নখকুনির কারণ
নখকুনি সাধারণত নিম্নলিখিত কারণে হয়ে থাকে:
আঘাত:
নখ কাটার সময় অতিরিক্ত মাংস কাটা বা চামড়া ওঠা।
নখের কোণে আঘাত লাগা।
টাইট জুতো পরা (পায়ের নখের ক্ষেত্রে)।
দাঁত দিয়ে নখ বা নখের চারপাশের চামড়া কামড়ানো।
ম্যানিকিওর বা পেডিকিওরের সময় অসাবধানতা।
জীবাণু সংক্রমণ:
ব্যাকটেরিয়া: সাধারণত স্টাফাইলোকক্কাস (Staphylococcus) বা স্ট্রেপটোকক্কাস (Streptococcus) ব্যাকটেরিয়া দ্বারা অ্যাকিউট (হঠাৎ শুরু হওয়া) নখকুনি হয়।
ছত্রাক (ফাঙ্গাস): ক্যানডিডা (Candida) নামক ইস্টের সংক্রমণে ক্রনিক (দীর্ঘস্থায়ী) নখকুনি হতে পারে। এটি প্রায়শই তাদের হয় যাদের হাত দীর্ঘক্ষণ ভেজা থাকে।
ভাইরাস: হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসও মাঝে মাঝে কারণ হতে পারে (হারপেটিক হুইটলো)।
অন্যান্য কারণ:
অতিরিক্ত পানি বা ডিটারজেন্টের সংস্পর্শে আসা (যেমন গৃহস্থালি কাজ, থালাবাসন ধোয়া)।
কিছু রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ।
ডায়াবেটিস বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।
কিছু ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
নখকুনির প্রকারভেদ:
নখকুনি প্রধানত দুই ধরনের হয়:
অ্যাকিউট (Acute) প্যারোনাইকিয়া:
এটি হঠাৎ শুরু হয় এবং দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়।
তীব্র ব্যথা, লালচে ভাব, ফোলা এবং পুঁজ জমতে দেখা যায়।
চিকিৎসায় দ্রুত সাড়া দেয়।
ক্রনিক (Chronic) প্যারোনাইকিয়া:
এটি ধীরে ধীরে শুরু হয় এবং দীর্ঘ সময় (৬ সপ্তাহের বেশি) ধরে থাকে।
সাধারণত ছত্রাক (ইস্ট) বা বারবার জ্বালাতনকারী পদার্থের সংস্পর্শে আসার কারণে হয়।
এক্ষেত্রে নখের চারপাশের ত্বক লালচে, ফোলা ও পুরু হয়ে যায়, এবং নখের গোড়ার চামড়া (কিউটিকল) উঠে যেতে পারে।
নখের রঙ পরিবর্তন হতে পারে বা নখ বিকৃত হতে পারে।
ব্যথা অ্যাকিউট ধরণের চেয়ে কম থাকতে পারে।
নখকুনির লক্ষণ:
নখের পাশে ব্যথা (বিশেষ করে চাপ লাগলে)।
আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে যাওয়া।
আক্রান্ত স্থান ফুলে যাওয়া।
জায়গাটি গরম অনুভব হওয়া।
পুঁজ জমা (সাদা বা হলদে তরল)।
নখের গোড়ার চামড়া (কিউটিকল) উঠে যাওয়া (ক্রনিক ক্ষেত্রে)।
নখের বিকৃতি বা রঙ পরিবর্তন (ক্রনিক ক্ষেত্রে)।
মাঝে মাঝে জ্বর আসতে পারে (গুরুতর সংক্রমণে)।
নখকুনি রোগ নির্ণয়:
সাধারণত শারীরিক পরীক্ষা করেই ডাক্তার নখকুনি নির্ণয় করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে পুঁজ পরীক্ষার (culture) প্রয়োজন হতে পারে জীবাণুর ধরন নিশ্চিত করার জন্য।
নখকুনির চিকিৎসা:
চিকিৎসা নির্ভর করে নখকুনির ধরন ও তীব্রতার উপর:
ঘরোয়া চিকিৎসা (প্রাথমিক পর্যায়ে): গরম সেঁক: দিনে ২-৩ বার ১৫-২০ মিনিটের জন্য হালকা গরম লবণ-পানিতে আক্রান্ত আঙুল ডুবিয়ে রাখুন। এটি ব্যথা কমাতে ও পুঁজ বের হতে সাহায্য করে। অ্যান্টিসেপটিক: স্থানটি পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। প্রয়োজনে হালকা অ্যান্টিসেপটিক লোশন বা অয়েন্টমেন্ট (যেমন পভিডোন-আয়োডিন) ব্যবহার করা যেতে পারে। আঘাত থেকে বাঁচানো: আক্রান্ত স্থানে যেন নতুন করে আঘাত না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখুন। নখকুনি প্রতিরোধ: নখ কাটার সময় সতর্ক থাকুন, খুব গভীর করে বা চামড়া ঘেঁষে কাটবেন না। নখ সোজা করে কাটুন। দাঁত দিয়ে নখ বা চারপাশের চামড়া কামড়ানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন। হাত ও পা পরিষ্কার এবং শুকনো রাখুন। বাসন মাজা বা ডিটারজেন্ট ব্যবহারের সময় গ্লাভস ব্যবহার করুন। পায়ের নখের ক্ষেত্রে সঠিক মাপের ও আরামদায়ক জুতো পরুন। ডায়াবেটিস থাকলে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ম্যানিকিওর ও পেডিকিওরের সময় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি যেন জীবাণুমুক্ত থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
আমাদের চিকিৎসা প্যাকেজে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়
Mediitem 17 ( নখ কুনির মহা ওষুধ ) ওজন 150 গ্রাম পাউডার, ওজন 30 এম এল টিংচার (বাহ্যিক ব্যবহার লিকুইড)
