দাঁত এবং মাড়ির জন্য সেরা হোমিওপ্যাথিক ঔষধ
দাঁতের রোগের জন্য ব্যবহৃত প্রধান হোমিওপ্যাথিক ঔষধ এবং তাদের ব্যবহার সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. ক্যালকেরিয়া কার্ব (Calcarea Carb):
- দাঁত দেরিতে উঠলে অথবা দাঁত দুর্বল হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- দাঁতের এনামেল (Enamel) দুর্বল হলে এবং দাঁতে সহজেই গর্ত হলে এটি উপযোগী।
- শিশুদের দাঁত ওঠার সময় ডায়রিয়া হলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
২. মার্ক সল (Merc Sol):
- মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে এবং মুখে দুর্গন্ধ হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- দাঁতের গোড়ায় ব্যথা এবং দাঁত নড়বড়ে হলে এটি উপযোগী।
- অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ (Salivation) এর ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করা হয়।
৩. হেক্লা লাভা (Hecla Lava):
- দাঁতের মাড়িতে টিউমার হলে বা হাড়ের বৃদ্ধি অস্বাভাবিক হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- দাঁত তোলার পরে ব্যথা হলে বা চোয়ালের হাড়ে সমস্যা হলে এটি উপযোগী।
৪. প্ল্যান্টাগো (Plantago):
- দাঁতের ব্যথা এবং দাঁতের শিরশিরানিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ।
- দাঁতের গর্তের কারণে ব্যথা হলে এবং ব্যথা কানে গেলে এটি ব্যবহার করা হয়।
৫. ক্রিয়োজোটাম (Kreosotum):
- দাঁতের ক্ষয় (Caries) দ্রুত হলে এবং দাঁতে কালো দাগ পড়লে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- দাঁতের মাড়ি স্পঞ্জি (Spongy) এবং রক্ত পড়া থাকলে এটি উপযোগী।
৬. স্ট্যাফিসেগ্রিয়া (Staphysagria):
- দাঁতের গোড়ায় ব্যথা এবং দাঁত তোলার পরে ব্যথা হলে এটি ব্যবহার করা হয়।
- মাড়িতে প্রদাহ (Inflammation) এবং ফোলা থাকলে এটি উপযোগী।
৭. সাইলিসিয়া (Silicea):
- দাঁত দুর্বল হলে এবং সহজে ভেঙে গেলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- দাঁতের মাড়ি থেকে পুঁজ (Pus) বের হলে এবং ফিস্টুলা (Fistula) হলে এটি উপযোগী।
৮. আর্সেনিক অ্যালবাম (Arsenicum Album):
- দাঁতের ব্যথা রাতে বৃদ্ধি পেলে এবং ঠান্ডা পানিতে উপশম হলে এটি ব্যবহার করা হয়।
- মাড়িতে জ্বালা এবং অস্থিরতা থাকলে এটি উপযোগী।
৯. নেট্রাম মিউর (Natrum Mur):
- দাঁতের ব্যথা লবণাক্ত খাবার খেলে বৃদ্ধি পেলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- দাঁতের মাড়ি শুষ্ক এবং সংবেদনশীল হলে এটি উপযোগী।
১০. ফসফরাস (Phosphorus):
- দাঁতের মাড়ি থেকে সহজে রক্ত পড়লে এবং দাঁত Bleeding tendency থাকলে এটি ব্যবহার করা হয়।
- মিষ্টি খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা থাকলে এবং ঠান্ডা পানীয় পছন্দ হলে এটি উপযোগী।
১১. কেলি ফস (Kali Phos):
- দাঁতের স্নায়ু দুর্বল হলে এবং সামান্য কারণেই দাঁতে ব্যথা হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে দাঁতে ব্যথা হলে এটি উপযোগী।
- মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে এবং মাড়ি স্পঞ্জি হলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
১২. ক্যালকেরিয়া ফস (Calcarea Phos):
- দাঁত উঠতে দেরি হলে এবং দাঁতের গঠন দুর্বল হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- শিশুদের দাঁত ওঠার সময় পেটের সমস্যা থাকলে এটি উপযোগী।
- হাড় এবং দাঁতের দুর্বলতা পূরণে এটি সহায়ক।
১৩. ম্যাগনেসিয়া কার্ব (Magnesia Carb):
- দাঁতের ব্যথা রাতে বৃদ্ধি পেলে এবং গরম পানি বা গরম সেঁক দিলে উপশম হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- অম্লতা (Acidity) এবং বদহজমের কারণে দাঁতে ব্যথা হলে এটি উপযোগী।
- দাঁতের মাড়িতে সহজে রক্ত পড়লে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
১৪. চায়না (China):
- শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বের হয়ে গেলে, যেমন ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত ঘাম হলে, দাঁতে ব্যথা হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- দাঁতের ব্যথা স্পর্শে বা নড়াচড়ায় বৃদ্ধি পেলে এটি উপযোগী।
- রক্তাল্পতা (Anemia) থাকলে এবং তার কারণে দাঁতে দুর্বলতা অনুভব হলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
১৫. কফিয়া ক্রুডা (Coffea Cruda):
- দাঁতের ব্যথা অসহ্য হলে এবং কোনো কিছুতেই উপশম না হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- অতিরিক্ত কফি পান করার কারণে দাঁতে সমস্যা হলে এটি উপযোগী।
- স্নায়বিক উত্তেজনা (Nervousness) এবং অস্থিরতার কারণে দাঁতে ব্যথা হলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
১৬. ইগ্নেশিয়া (Ignatia):
- মানসিক আঘাত বা শোকের কারণে দাঁতে ব্যথা হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- দাঁতের ব্যথা পরিবর্তনশীল হলে, অর্থাৎ কখনো কম কখনো বেশি হলে এটি উপযোগী।
- সংবেদনশীল এবং আবেগপ্রবণ ব্যক্তিদের জন্য এটি বেশি উপযোগী।
১৭. পালসেটিলা (Pulsatilla):
- দাঁতের ব্যথা গরমে বৃদ্ধি পেলে এবং ঠান্ডা পানিতে উপশম হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- মিষ্টি খাবার খাওয়ার পরে দাঁতে ব্যথা হলে এটি উপযোগী।
- নম্র, ভদ্র এবং সহজে সান্ত্বনা দেওয়া যায় এমন স্বভাবের মানুষের জন্য এটি বেশি উপযোগী।
১৮. রুটা গ্রাভিওলেন্স (Ruta Graveolens):
- দাঁতের গোড়ায় আঘাত লাগলে বা দাঁত তোলার পরে ব্যথা হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- চোয়ালের হাড়ে ব্যথা এবং দুর্বলতা অনুভব হলে এটি উপযোগী।
- দাঁতের স্থানচ্যুতি (Dislocation) বা আলগা হয়ে যাওয়ার অনুভূতি হলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
১৯. থুজা অক্সিডেন্টালিস (Thuja Occidentalis):
- দাঁতের মাড়িতে আঁচিল (Warts) বা টিউমারের মতো কিছু হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- দাঁতের ব্যথা ঠান্ডা বাতাসে বৃদ্ধি পেলে এটি উপযোগী।
- ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে দাঁতে সমস্যা হলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
২০. ভাইব্রানাম (Viburnum Opulus):
- মহিলাদের দাঁতের ব্যথা মাসিকের সময় বৃদ্ধি পেলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- দাঁতের ব্যথা তলপেটের ব্যথার সাথে সম্পর্কিত হলে এটি উপযোগী।
- গর্ভাবস্থায় দাঁতের সমস্যা হলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
২১. অ্যাম্ব্রা গ্রিসিয়া (Ambra Grisea):
- বয়স্ক ব্যক্তিদের দাঁতের সমস্যা, বিশেষ করে দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়া এবং মাড়ি দুর্বল হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই ঔষধটি উপযোগী।
- স্নায়বিক দুর্বলতা এবং সংবেদনশীলতা থাকলে এটি ব্যবহার করা হয়।
- রাতে দাঁতের ব্যথা বৃদ্ধি পেলে এবং ঠান্ডায় উপশম হলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
২২. অ্যান্টিমোনিয়াম ক্রুডাম (Antimonium Crudum):
- দাঁতের ব্যথা অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় বা খাবার খাওয়ার পরে হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- জিহ্বায় সাদা পুরু আস্তরণ থাকলে এবং হজমের সমস্যা থাকলে এটি উপযোগী।
- খিটখিটে মেজাজ এবং স্পর্শকাতরতা থাকলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
২৩. বেলিস পেরেনিস (Bellis Perennis):
- দাঁত তোলার পরে বা দাঁতের সার্জারির পরে ব্যথা হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- আঘাতের কারণে দাঁতের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হলে এটি উপযোগী।
- দাঁতের গোড়ায় কালশিটে দাগ পড়লে বা ফোলা থাকলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
২৪. ব্রায়োনিয়া (Bryonia):
- দাঁতের ব্যথা নড়াচড়ায় বৃদ্ধি পেলে এবং স্থির থাকলে উপশম হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- শুকনো মুখ এবং অতিরিক্ত পিপাসা থাকলে এটি উপযোগী।
- কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) এবং মাথা ব্যথা থাকলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
২৫. ক্যাকটাস গ্র্যান্ডিফ্লোরাস (Cactus Grandiflorus):
- দাঁতের ব্যথা এমন হলে যেন মনে হয় কেউ লোহার তার দিয়ে দাঁত চেপে ধরেছে, সেক্ষেত্রে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- হৃদরোগের সাথে সম্পর্কিত দাঁতের সমস্যা থাকলে এটি উপযোগী।
- ব্যথা নির্দিষ্ট সময়ে বৃদ্ধি পেলে বা কমে গেলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
২৬. ক্যামোমিলা (Chamomilla):
- শিশুদের দাঁত ওঠার সময় অতিরিক্ত কান্নাকাটি করলে এবং খিটখিটে মেজাজ হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- ব্যথা অসহ্য হলে এবং কোনো কিছুতেই শান্ত না হলে এটি উপযোগী।
- গরম খাবারে দাঁতের ব্যথা বৃদ্ধি পেলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
২৭. ক্লিমেটিস ইরেকটা (Clematis Erecta):
- দাঁতের ব্যথা ঠান্ডা বাতাসে বৃদ্ধি পেলে এবং গরম ঘরে উপশম হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- দাঁতের মাড়িতে ছোট ছোট ফোস্কা (Vesicles) দেখা দিলে এটি উপযোগী।
- গ্রন্থি (Glands) ফুলে গেলে বা শক্ত হয়ে গেলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
২৮. ডায়োস্কোরিয়া ভিলোসা (Dioscorea Villosa):
- দাঁতের ব্যথা পেটের সমস্যার সাথে সম্পর্কিত হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- ব্যথা পেটের দিকে ছড়িয়ে গেলে বা পেটে মোচড় দিলে এটি উপযোগী।
- দাঁতের ব্যথা রাতে বৃদ্ধি পেলে এবং সকালে কমলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
২৯. ইউফ্রেসিয়া (Euphrasia):
- দাঁতের ব্যথা চোখের সমস্যার সাথে সম্পর্কিত হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- চোখ থেকে জল পড়া এবং আলোতে সংবেদনশীলতা থাকলে এটি উপযোগী।
- দাঁতের মাড়ি লাল হয়ে গেলে এবং ফুলে গেলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩০. গ্রাফাইটিস (Graphites):
- দাঁতের মাড়ি থেকে আঠালো তরল (Sticky discharge) বের হলে এবং ত্বকের সমস্যা থাকলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- দাঁতের ব্যথা গরমে বৃদ্ধি পেলে এবং ঠান্ডায় উপশম হলে এটি উপযোগী।
- কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ত্বকে ফুসকুড়ি থাকলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩১. হাইপেরিকাম (Hypericum):
- দাঁতের স্নায়ুতে আঘাত লাগলে বা দাঁত তোলার সময় নার্ভ ড্যামেজ হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- ধারালো ব্যথা এবং স্নায়ুর প্রদাহ (Neuritis) কমাতে এটি উপযোগী।
- আঙুল বা পায়ের নখে আঘাত লাগলে এবং ব্যথা হলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩২. ল্যাকেসিস (Lachesis):
- দাঁতের ব্যথা বাম দিকে বেশি হলে এবং গরমে বৃদ্ধি পেলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- দাঁতের মাড়ি নীলচে বা কালচে দেখালে এবং স্পর্শকাতর হলে এটি উপযোগী।
- ঘুমের মধ্যে দাঁতের ব্যথা বৃদ্ধি পেলে এবং শ্বাসকষ্ট হলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩৩. মেডোরিনাম (Medorrhinum):
- দাঁতের ক্ষয় (Caries) দ্রুত হলে এবং দাঁতগুলো ভঙ্গুর হয়ে গেলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- রাতে দাঁতের ব্যথা বৃদ্ধি পেলে এবং সমুদ্রের ধারে উপশম হলে এটি উপযোগী।
- অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার খাওয়ার প্রবণতা থাকলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩৪. মেজেরিয়াম (Mezereum):
- দাঁতের ব্যথা রাতে বৃদ্ধি পেলে এবং ঠান্ডা লাগলে উপশম হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- দাঁতের মাড়িতে ছোট ছোট ফোস্কা (Vesicles) দেখা দিলে এবং চুলকানি থাকলে এটি উপযোগী।
- ত্বকের সমস্যা, যেমন – একজিমা (Eczema) থাকলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩৫. নাক্স ভোমিকা (Nux Vomica):
- দাঁতের ব্যথা মশলাদার খাবার, কফি বা অ্যালকোহল পান করার পরে হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- খিটখিটে মেজাজ, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অনিদ্রা থাকলে এটি উপযোগী।
- সকালে দাঁতের ব্যথা বৃদ্ধি পেলে এবং সন্ধ্যায় কমলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩৬. পেট্রোলিয়াম (Petroleum):
- দাঁতের ব্যথা গরমে উপশম হলে এবং শীতে বৃদ্ধি পেলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- দাঁতের মাড়ি শুষ্ক এবং ফাটলযুক্ত হলে এটি উপযোগী।
- পেট্রোলিয়াম বা গ্যাস জাতীয় দ্রব্যের প্রতি আকাঙ্ক্ষা থাকলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩৭. র্যানুনকুলাস বালবোসাস (Ranunculus Bulbosus):
- দাঁতের ব্যথা আবহাওয়ার পরিবর্তনে বৃদ্ধি পেলে, বিশেষ করে ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- বুকের ব্যথা এবং স্নায়ুশূল (Intercostal neuralgia) থাকলে এটি উপযোগী।
- দাঁতের মাড়িতে জ্বালা এবং ফোস্কা থাকলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩৮. রোডোডেনড্রন (Rhododendron):
- দাঁতের ব্যথা ঝড়ের আগে বা আবহাওয়ার পরিবর্তনে বৃদ্ধি পেলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- গেঁটে বাত (Gout) এবং জয়েন্টের ব্যথার সাথে দাঁতের সমস্যা থাকলে এটি উপযোগী।
- অস্থিরতা এবং স্মৃতি দুর্বলতা থাকলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩৯. সিপিয়া (Sepia):
- দাঁতের ব্যথা মহিলাদের হরমোন পরিবর্তনের সময় হলে, যেমন – গর্ভাবস্থা বা মেনোপজের সময় এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- দুর্বলতা, বিষণ্ণতা এবং খিটখিটে মেজাজ থাকলে এটি উপযোগী।
- দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে এবং মুখে দুর্গন্ধ হলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪০. টারেন্টুলা হিস্পানিকা (Tarentula Hispanica):
- দাঁতের ব্যথা অস্থিরতা এবং ছটফটানির সাথে থাকলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- মিউজিকের প্রতি আকর্ষণ এবং নাচের প্রবণতা থাকলে এটি উপযোগী।
- দাঁতের মাড়িতে প্রদাহ এবং ফোলা থাকলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪১. অ্যাসিড ফসফোরিকাম (Acid Phosphoricum):
- দাঁতের ব্যথা মানসিক বা শারীরিক দুর্বলতার কারণে হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- স্মৃতি দুর্বলতা, মনোযোগের অভাব এবং অবসাদ থাকলে এটি উপযোগী।
- দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে গেলে এবং দাঁত সংবেদনশীল হলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪২. অ্যালুমিনা (Alumina):
- দাঁতের ব্যথা কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে সম্পর্কিত হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- শুকনো মল এবং মল ত্যাগে অসুবিধা হলে এটি উপযোগী।
- অদ্ভুত খাবার খাওয়ার ইচ্ছা, যেমন – চক বা মাটি খাওয়ার প্রবণতা থাকলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪৩. বোরাক্স (Borax):
- দাঁতের ব্যথা নিচের দিকে নামার সময় বা লিফটে চড়ার সময় বৃদ্ধি পেলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- মুখের অভ্যন্তরে সাদা দাগ বা ঘা (Thrush) থাকলে এটি উপযোগী।
- শিশুদের দাঁত ওঠার সময় ডায়রিয়া হলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪৪. ক্যাপসিকাম (Capsicum):
- দাঁতের ব্যথা ঠান্ডা লাগলে বা ঠান্ডা পানীয় খেলে বৃদ্ধি পেলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- লাল মুখ, গাল এবং শরীরে জ্বালা থাকলে এটি উপযোগী।
- নস্টালজিয়া বা পুরনো স্মৃতির প্রতি দুর্বলতা থাকলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪৫. চিনিনাম সালফিউরিকাম (Chininum Sulphuricum):
- দাঁতের ব্যথা ম্যালেরিয়া বা অন্য কোনো জ্বরের পরে হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- দুর্বলতা, রক্তাল্পতা এবং স্নায়ু দুর্বলতা থাকলে এটি উপযোগী।
- দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে এবং মুখে তিক্ত স্বাদ থাকলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪৬. কলোসিন্থ (Colocynth)
- দাঁতের ব্যথা পেটের ব্যথার সাথে সম্পর্কিত হলে এবং কোমর বাঁকালে উপশম হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- খিটখিটে মেজাজ এবং রাগের কারণে দাঁতে ব্যথা হলে এটি উপযোগী।
- পেটে গ্যাস জমা এবং পেট ফাঁপা থাকলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪৭. ডালকামারা (Dulcamara):
- দাঁতের ব্যথা স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় বা ঠান্ডা লাগলে বৃদ্ধি পেলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- দাঁতের মাড়িতে প্রদাহ এবং ফোলা থাকলে এটি উপযোগী।
- ত্বকের সমস্যা, যেমন – আর্টিকা রিয়া (Urticaria) থাকলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪৮. আর্নিকা মন্টানা (Arnica Montana):
- দাঁতে আঘাত লাগলে বা দাঁত তোলার পরে ব্যথা হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- মাড়ি থেকে রক্ত পড়া এবং ফোলা কমাতে এটি উপযোগী।
- দাঁতের সার্জারির পরে দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪৯. বেলাডোনা (Belladonna):
- দাঁতের ব্যথা হঠাৎ করে শুরু হলে এবং তীব্র হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- মুখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখের মণি প্রসারিত হওয়া এবং শরীরে তাপ অনুভব হলে এটি উপযোগী।
- আলো এবং শব্দে সংবেদনশীলতা থাকলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫০. কোনায়াম (Conium Maculatum):
- দাঁতের ব্যথা গ্রন্থি ফুলে গেলে (swollen glands) বা টিউমারের কারণে হলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা হয়।
- মাথা ঘোরা এবং শারীরিক দুর্বলতা থাকলে এটি উপযোগী।
- স্তনের সমস্যা বা প্রোস্টেট গ্রন্থির সমস্যা থাকলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
MEDIITEM 20 একের ভিতর সব
